অরক্ষিত দীঘিনালা হর্টিকালচার সেন্টার: পরিণত হয়েছে বখাটেদের আড্ডাখানায়

Horticulture Pic 1 Horticulture Pic 3 

দিদারুল আলম রাফি, উপজেলা প্রতিনিধি, দীঘিনালা:

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় প্রায় সাড়ে আট একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত দীঘিনালার একমাত্র হর্টিকালচার সেন্টার। অযত্ন আর অবহেলায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে হর্টিকালচার সেন্টারটি।বর্তমানে এটি অরক্ষিত আর বখাটেদের আড্ডাখানায় পরিনত হয়েছে।কয়েক বছর ধরে হর্টিকালচার সেন্টারের কার্যক্রম সর্ম্পূন বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে হর্টিকালচার সেন্টার ঘুরে দেখা য়ায়, এর সামনেও পাশে কিছু অংশ সীমানা দেয়াল থাকলেও বেশিরভাগ এলাকা অরক্ষিত। যার ফলে বাইরে থেকে লোকজন এসে এখানে ঝামেলার সৃষ্টি করে।একসময় বাণিজ্যিকভাবে এই সেন্টার থেকে ফুলের চারাসহ নানা ধরনের ফলজ, বনজ, ঔষধী চারা উৎপাদন করে বিক্রির খুব সুনাম ছিল, এমনকি বিভিন্ন ফল বিক্রিও হত এখান থেকে।

বর্তমানে হর্টিকালচার সেন্টারের কার্যক্রম মৃতপ্রায়। গাড়ির গ্যারেজ তালাবন্ধ অবস্থায় দুইটি পাওয়ার টিলার ও একটি ট্রলি দীর্ঘদিন পরে থাকায় নষ্টের পথে। হর্টিকালচার সেন্টারের চারা উৎপাদনের ঘরটি একেবারেই খালি পড়ে আছে। সেন্টারের পুকুরগুলো শুকিয়ে গেছে। সবগুলো ফলজ, বনজগাছ এখন মৃত্যুপথযাত্রী।

হর্টিকালচার সেন্টারে বর্তমানে কর্মরত আছেন একজন নাসার্রী তত্তাবধায়ক,  একজন উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা, একজন পাওয়ার টিলার চালক, চারজন গার্ডেনার ও একজন প্রহরী।পদশূন্য আছে একজন প্রহরী ও একজন গার্ডেনারের। কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মাস বেতন ভাতায় খরচ হয় একলক্ষ দুই হাজার টাকা। অথচ বছরে আয় হয় শুধুমাত্র ৪-৫হাজার টাকার মত।

 এ ব্যপারে দীঘিনালা কৃষিকর্মকর্তা মোঃসালউদ্দিন বলেন, হর্টিকালচার সেন্টারের সংরক্ষিত এলাকার সীমানা অরক্ষিত হওয়ার এর ভিতর দিয়ে স্থানীয় লোকজন যাতায়াত করে।দীর্ঘদিন ধরে হর্টিকালচারের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্মকর্তা কর্মচারীরা একইস্থানে দীর্ঘদিন চাকরি করার কারনে একঘেমির ভাব চলে এসেছে।যার ফলে হর্টিকালচার সেন্টারের কাজকর্ম ব্যহত হচ্ছে।

 দীঘিনালা হর্টিকালচারের উপ-সহকারী উদ্যানকর্মকর্তা কৃতিচাকমা বলেন, হর্টিকালচারের সীমানা অরক্ষিত হওয়ার কারনে স্থানীয় লোকজন এর ভিতর দিয়ে বেপরোয়াভাবে যাতায়াত করে।স্থানীয় লোকজন প্রায় সময় এখানে চারা কিনতে আসে। তখন তাদের চারা নেই বলতে লজ্জা লাগে। সরকারী কোন বরাদ্দ না দেয়ায় আমরা কিছু করতে পারছি না। আমাদের বেতনভাতা তুলতেও নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়।বেতন তুলতে জেলা সদরে চার-পাঁচবার যেতে হয়।হর্টিকালচার সেন্টারের অফিসিয়িলি কাজে ব্যবহৃত একমাত্র কম্পিউটারটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। অফিসিয়াল কাজ করতে হয় বাহিরের কম্পিউটার দিয়ে।

 স্থানীয় লোকজন অনেক আক্ষেপের সাথে জানান, একসময় এই হর্টিকালচার সেন্টারের অনেক সুনাম ছিলো।কিন্তু এখন অযত্ন আর অবহেলায় হর্টিকালচারটির যা-তা অবস্থা। ঠিকমত চারা উৎপাদন হচ্ছে না।বখাটে ছেলেরা বিভিন্ন সময় আড্ডা দেয়ার ফলে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। সবার একটাই দাবী, হর্টিকালচার সেন্টারটি যেন পূর্বেকার ন্যায় আবার চালু করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + 9 =

আরও পড়ুন