parbattanews

অরুণাচলে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেছে চায়না, অভিযোগ জনজাতি সংগঠনের

ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার অভ্যন্তরে ঢুকে পাকাপোক্ত ঘাঁটি গড়ে ফেলেছে চীনা পিপলস্ লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। এমনটাই দাবি করেছে, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দা জনজাতিদের একটি সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, লালফৌজের দখলদারির ফলে গত ছ’বছর ধরে ওই এলাকায় স্থানীয়দের চাষের কাজ এবং পশুচারণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

সোমবার ( ২৯ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে দেশটির সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে বলা হয়, ভারতীয় সেনাবাহিনী তরফ থেকে এই অভিযোগ খারিজ তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘অরুণাচল প্রদেশে চীনের সেনার অনুপ্রবেশ এবং সেখানে শিবির স্থাপনের অভিযোগ করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে সব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা ভুল এবং ভিত্তিহীন।’’

প্রতিবেদনে বলা হয়, অরুণাচল প্রদেশের উত্তর অংশে চীন অধিকৃত তিব্বত লাগোয়া ওই অঞ্চলে নাহ্‌ জনজাতির বাস। তাঁদের সংগঠন ‘নাহ্‌ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-র সভাপতি কেরু চাদের টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদককে বলেন, ‘‘ওই জমি আমাদের পূর্বপুরুষদের। সেখানে বহু যুগ ধরে তাঁরা শিকার, পশুচারণ এবং চাষাবাদ করেছেন।’’ কিন্তু প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) লাগোয়া আপার সুবনসিরি জেলার অন্তত পাঁচটি এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রদেশ করে চীনা ফৌজ স্থায়ী পরিকাঠামো গড়েছে এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের সেখানে যেতে বাধা দিচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

গত ১২ বছর আগে মাঝে মধ্যে ওই এলাকাগুলিতে চীনা ফৌজের অনুপ্রদেশ ঘটত বলে জানিয়েছেন কেরু। কিন্তু ২০২০ সালে তারা পাকাপাকি ভাবে ওই ভূখণ্ডগুলির দখল নেয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘কার্যত ওই সময় থেকেই আমাদের সেখানে যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’’ আসাফিলা এলাকায় ওয়িং এবং পানিয়ার (চুজার্তা এলাকা), মারপান (মারনাফে), পোটরাং (হ্রদ) ও টিন্ডিংটাং (টিজি)-তে এমন দখলদারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, বছর কয়েক আগে লাদাখেও একই ভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে স্থানীয় পশুপালকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পিএলএ-র বিরুদ্ধে। কিন্তু সে সময় কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, লাদাখে ভারতের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও চিন দখল করেনি।

পঞ্চাশের দশকে চেয়ারম্যান মাও জে দংয়ের নির্দেশে চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র তিব্বত দখল করেছিল। এর পরেই শুরু হয় স্বাধীনতাকামী তিব্বতিদের উপর দমনপীড়ন। পরবর্তী সময়ে চিনা অত্যাচারের আশঙ্কায় কয়েক লক্ষ অনুগামী-সহ ভারতে চলে এসেছিলেন তিব্বতি বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু দলাই লামা। ভারত তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিল। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ডের পাশাপাশি অরুণাচলের বিভিন্ন অংশেও তিব্বতি শরণার্থীরা আশ্রয় পেয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে তার পর থেকে পুরো অরুণাচলকে ‘চীনা ভূখণ্ড’ বলে দাবি করে সুর চড়াতে শুরু করেন সে দেশের কমিউনিস্ট শাসকেরা। এর আগে ২০২৪ সালে অরুণাচলের অঞ্জো জেলার কাপাপু এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে শিবির স্থাপনের অভিযোগ উঠেছিল চীনাফৌজের বিরুদ্ধে।

উৎস: আনন্দবাজার অনলাইন ( ২৯ জুন ২০২৬)

Exit mobile version