
ফাতেমা জান্নাত মুমু:
অসহনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিবাসী। প্রায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে মানুষের চরম ভোগান্তি বেড়ে গেছে। প্রতিদিনকার বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম হয়ে উঠেছে।
সূত্র জানিয়েছে, রাঙামাটি জেলায় প্রতিদিনের বিদ্যুতের চাহিদা মাত্র ৫ মেগাওয়াট। কিন্তু জেলার কাপ্তাইয়ে দেশের প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপিত হয়েও এ জেলার অধিবাসীরা সামান্য বিদ্যুৎ প্রাপ্তিতে বঞ্চিত হচ্ছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ২৫০ মেগাওয়াট।
অভিযোগ উঠেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। ফলে বাড়তে শুরু করেছে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন। কিন্তু তার পরেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।
পবিত্র মাহে রমজান মাসেও চরম বিদ্যুৎ সঙ্কটে নাকাল রাঙামাটিবাসী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যা একেবারে অসহনীয়। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ লোডশেডিং, লো ভোল্টেজ ও বিভ্রাটসহ নানা ত্রুটি এবং কারণে অকারণে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া অতিষ্ঠ করে তুলেছে জেলাবাসীকে। রাঙামাটি জেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও এ জেলায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কোন উন্নতিই হয়নি। আগের মতোই চলছে লোডশেডিং।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে দেখানো হচ্ছে বিভিন্ন অজুহাত। বলা হচ্ছে, কাপ্তাই হ্রদে পানি না থাকায় এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তাছাড়া রাঙামাটি শহরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হঠাৎ বিদ্যুৎ ফল্ট, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সেগুলোর সংস্কারসহ বিভিন্ন কারণ। বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়মিত অজুহাতে রাঙামাটি শহরে রিজার্ভ বাজার, বনরুপা, তবলছড়ি, কলেজ গেইট, টিটিসি, ভেদভেদীসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে সময়ে-অসময়ে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। রাতেও বিদ্যুৎ না থাকার কারণে পুরো রাঙামাটি অন্ধকারে ডুবে থাকে। প্রায় সময়ের লো- ভোল্টেজের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে শহরের মানুষ।
অথচ রাঙামাটির কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আব্দুল রহমান জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য হ্রদে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি রয়েছে। সাধারণত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য হ্রদে সর্বনিম্ম পানি প্রয়োজন হয় অন্তত: ৭৮ দশমিক ৯৬ ফুট (মীন সী লেভেল) । কিন্তু বর্তমান সময়ে হ্রদের পানির স্তর ৮০ দশমিক ৯ ফুট বা (মীন সী লেভেল) আছে। তাই পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে । তাছাড়া কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটও সচল রয়েছে বলে জানান তিনি।