অস্ট্রেলিয়াকে টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন রানের লজ্জা দিল টাইগাররা

fec-image

নিজেদের ইতিহাসে কখনো এমন লজ্জায় পড়েনি অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টিতে এর আগে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৭৯। এবার বাংলাদেশে এসে ৬২ রানে অলআউট হলো ক্যাঙ্গারুরা। সিরিজ তো হেরেছিল আগেই, শেষটায় লজ্জায় লাল হলো ম্যাথু ওয়েডের দল।

মিরপুরে আজ (সোমবার) সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা স্বাগতিক দল শেষ করেছে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে।

বাংলাদেশের পুঁজি ছিল মাত্র ১২২ রানের। তবে এই উইকেটে এ রানটাও যে পাহাড়সমান, সেটা হারে হারেই টের পেল অস্ট্রেলিয়া। ১৪ রানে শেষ ৭ উইকেট হারাল তারা।

১২৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চেপে ধরেন টাইগার বোলাররা। ১৭ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারায় ম্যাথু ওয়েডের দল। দুটি উইকেটই নেন নাসুম আহমেদ।

গত ম্যাচে বলতে গেলে ড্যান ক্রিশ্চিয়ানের ব্যাটিংয়ের কাছেই হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। মাত্র ১০৫ রানের ছোট্ট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অসি ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসানের এক ওভারেই হাঁকান ৫ ছক্কা।

ভয়ংকর এই ব্যাটসম্যানকে এবার উইকেটে থিতু হতে দেননি নাসুম। টাইগার বাঁহাতি এই স্পিনার ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে নিয়েই বোল্ড করে দেন ক্রিশ্চিয়ানকে।

নাসুমের ঘূর্ণি ডেলিভারিতে ক্রস খেলতে গিয়ে পুরোপুরি মিস করেন ক্রিশ্চিয়ান (৩ বলে ৩), ভেঙে যায় উইকেট। ৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। পরের ওভারে এসে নাসুম তুলে নেন এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যানকেও।

অসি ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মিচেল মার্শকে এলবিডব্লিউ করেন নাসুম। স্লগ করতে গিয়ে বল মিস করলে আম্পায়ার আঙুল তুলে দেন। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি মার্শ (৪)।

এরপর ম্যাথু ওয়েড আর ম্যাকডরমট কিছুটা চোখ রাঙানি দিয়েছিলেন। গত ম্যাচে বেদম মার খাওয়া সাকিব আল হাসান এবার অষ্টম ওভারে বল হাতে নিয়েই নিজের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে বোল্ড করেছেন অসি অধিনায়ক ওয়েডকে (২২ বলে ২২)।

পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দুঃখ আরও বাড়ান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নিজের প্রথম ওভারে তিনিও সাফল্য পান, ফেরান ম্যাকডরমটকে (১৬ বলে ১৭)।

এক ওভার একটু স্বস্তিতে কেটেছিল অস্ট্রেলিয়ার। তারপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের জোড়া আঘাত। প্রথমে দারুণ এক ডেলিভারিতে তিনি বোল্ড করেন অ্যালেক্স কারেকে (০)। এক বল পর উইকেটের পেছনে ক্যাচ ময়েচেস হেনড্রিকস (৩)।

পরের ওভারে সাকিবকে কাট করতে গিয়ে শর্ট কভারে ক্যাচ অ্যাশটন টার্নার (১)। ৫৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এরপর লেজটা মুড়ে দিতে আর সময় লাগেনি। ১৩.৪ ওভারেই ৬২ রানে গুটিয়ে যায় অসিদের ইনিংস।

আগের ম্যাচের দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে সাকিবই দলের সেরা বোলার। মাত্র ৯ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। সাইফউদ্দিন ১২ রানে ৩টি আর নাসুম ৮ রানে নেন ২ উইকেট।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা শেষের দিকে এমনভাবেই চেপে ধরেন টাইগার ব্যাটসম্যানদের, প্রত্যাশার কাছাকাছিও যেতে পারেনি স্বাগতিকরা।

শেষ ৫ ওভারে মাত্র ২০ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ। হারায় ৩ উইকেট। ফলে অলআউট না হয়েও ৮ উইকেটে ১২২ রানে আটকে যায় টাইগারদের ইনিংস।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সৌম্য সরকারের টানা ব্যর্থতায় এবার ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন আনা হয়। প্রমোশন পেয়ে নাইম শেখের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করে মাহেদি হাসান।

নতুন জুটি খারাপ করেনি। প্রথম তিন ওভারেই ৩৩ রান তুলেছিলেন নাইম আর মাহেদি। তাদের ২৭ বলে ৪২ রানের ঝড়ো জুটিটি শেষ পর্যন্ত থেমেছে মাহেদির ব্যাটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে।

ইনিংসের পঞ্চম ওভারে অসি অফস্পিনার অ্যাটশন টার্নারকে ব্যাকফুটে গিয়ে পুলের মতো খেলতে চেয়েছিলেন মাহেদি। হাত থেকে তার ব্যাট ছুটে যায়, অন্যদিকে বল উঠে যায় ওপরে। মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে সহজ ক্যাচ নেন অ্যাশটন অ্যাগার।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 2 =

আরও পড়ুন