আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস: কক্সবাজারের নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত রোহিঙ্গারা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে

Coxs 20 Jun (1)

স্টাফ রিপোর্টার:
আজ ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস। শরণার্থী রয়েছে এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বাংলাদেশের কক্সবাজারের কয়েকটি এলাকা শরণার্থীদের ভারে জর্জরিত হয়ে আছে। কক্সবাজারের কুতুপালং ও নায়াপাড়ার দুটি শরণার্থী শিবিরে ২৯ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গার পাশাপাশি এই দুটি শিবিরের লাগোয়া পাহাড়ে ঝুঁপড়ি বেঁধে বসবাস করছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার রোহিঙ্গা। শরণার্থী না হয়েও শরণার্থীর মতো থাকা বিশাল সংখ্যায় এই রোহিঙ্গারা এখন কক্সবাজারে জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাসকারী হাজার হাজার রোহিঙ্গা খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছে।

শরণার্থী ক্যাম্প ঘুরে জানা যায়, মিয়ানমারের আকিয়াব প্রদেশের মংডু টাউনশিপের বলি বাজারের বাসিন্দা আবদুর রহমান ২২ বছর আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে প্রথমে কুতুপালংএ শরণার্থীর মর্যাদায় থাকার পরে স্বদেশে ফিরে গিয়ে ৮ বছর আগে আবারও স্বপরিবারে পালিয়ে এসে এই বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

আবুদর রহমানের মতো হাজার হাজার রোহিঙ্গা যারা একাধিকবার এপার-ওপার করেছেন। বর্তমানে তারা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা হিসেবে এই বস্তিতে বসাবস করছেন। শরণার্থী মর্যাদা পাবে এমন কোন গ্যারান্টিও নেই তাদের। কখন দেশে ফিরে যাবে এমন নিশ্চয়তাও নেই।

উখিয়ার কুতুপালং এবং টেকানফের লেদা নামক জায়গায় রোহিঙ্গারা দুটি বস্তিতে বসবাস করছে। ৮০ থেকে ৯০ হাজারের মতো রোহিঙ্গাকে কয়েকটি বেসরকারী এনজিও তদের স্বাস্থ্য চিকিৎসা ও সেনিটেশনের দেখাশুনা করলেও সরকারী এবং বেসরকারী কোন সূত্র থেকে খাদ্য সাহায্য পায়না। বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে শ্রম বিক্রি করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে। বাংলাদেশের শ্রমবাজার দখলের পাশাপাশি বনাঞ্চলের গাছ উজাড়েও এসব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কক্সবাজারের জন্য মারাত্মক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Coxs 20 Jun (2)১৯৯১ সালে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে দুই লাখ ৫১ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কক্সবাজার এবং বান্দরবানের ২০ শরণার্থী ক্যাম্পে তাদের আশ্রয় দেয়া হয়। পরবর্তীতে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ সরকারের দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির সূত্র ধরে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে রাজি হয়। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশন (ইউএনএইচসিআর) এর তত্ত্বাবধানে পরবর্তীতে ২ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী স্বদেশে ফেরত যায়।

সর্বশেষ ২০০৫ সালের জুলাই মাসে এক পরিবারে দুইজন রোহিঙ্গা শরণার্থী স্বদেশে ফেরত গিয়েছিল। তখন থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে উখিয়ার কুতুপালং এবং টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে ২৯ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা অবস্থান নেয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 + thirteen =

আরও পড়ুন