parbattanews

আদালতের রায়ের পর ভারতে প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ কার্যকর

ভারতে আদালতের অনুমোদনের পর প্রথমবারের মতো ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ (প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া) কার্যকর করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ৩১ বছর বয়সী হরিশ রানার মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেশটির রাজধানী দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস) হাসপাতালে রানা মারা যান।

হরিশ রানা ২০১৩ সালে চতুর্থ তলার বারান্দা থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। সে সময় তিনি একজন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি কোমায় ছিলেন।

প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া কার্যকর হওয়াকে ভারতে একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া বলতে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা বা সহায়তা প্রত্যাহার বা বন্ধ করে দেওয়াকে বোঝায়।

২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্যাসিভ ইউথেনেশিয়াকে বৈধতা দেয় এবং ‘লিভিং উইল’ করার সুযোগ দেয়। এই আইনি নথির মাধ্যমে ১৮ বছরের বেশি বয়সী কেউ আগে থেকেই নির্ধারণ করে যেতে পারেন, গুরুতর অসুস্থতায় তিনি কী ধরনের চিকিৎসা নিতে চান।

তবে রানার ক্ষেত্রে কোনো ‘লিভিং উইল’ ছিল না। ফলে কোমায় থাকার কারণে তিনি নিজে সিদ্ধান্ত জানাতে পারছিলেন না। এ অবস্থায় তার বাবা-মা আদালতের দ্বারস্থ হন।

২০২৪ সালে দিল্লি হাইকোর্টে প্রথম আবেদন করা হলেও তা খারিজ হয়। আদালত তখন জানায়, রানা লাইফ সাপোর্ট মেশিনে ছিলেন না এবং “কোনো বাহ্যিক সহায়তা ছাড়াই বেঁচে থাকতে সক্ষম”।

পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টেও প্রথম আবেদনটি খারিজ হয়। তবে ২০২৫ সালে পুনরায় আবেদন করলে পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরা হয় এবং বলা হয়, তাকে “কৃত্রিমভাবে” জীবিত রাখা হচ্ছে।

এরপর দুটি মেডিকেল বোর্ড রানার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে জানায়, তার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই।

গত ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, রানা চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না এবং বিষয়টি চিকিৎসকদের “ক্লিনিক্যাল জাজমেন্ট”-এর ওপর ছেড়ে দেয়া হয়।

পরবর্তীতে তাকে এইমসের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের পর তার মৃত্যু হয়।

রানার মৃত্যুর পর পরিবারের আইনজীবী ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘দেশজুড়ে এমন অনেক রোগী রয়েছেন’—এই মামলা ভবিষ্যতে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

Exit mobile version