আনোয়ারায় আগামীকালের পার্বত্য চুক্তি পরিবীক্ষণ কমিটির তড়িঘড়ি বৈঠক নিয়ে নানা প্রশ্ন

fec-image

আগামীকাল ১৮ জানুয়ারি রোববার সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। এজন্য ঢাকায় তাঁর মন্ত্রণালয়ের পূর্ব নির্ধারিত সভা স্থগিতের নোটিশ জারি করা হয়েছে।

আনোয়ারায় কর্ণফুলী টানেল সাইট অফিসের টোলপ্লাজা সংলগ্ন কমপ্লেক্স বিল্ডিংয়ের কনফারেন্স রুমে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আগামীকালের এই তড়িঘড়ি বৈঠক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে  আশঙ্কা প্রকাশ করে লেখালেখি শুরু হয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, মন্ত্রণালয়ের পূর্ব নির্ধারিত সভা ‘অনিবার্য কারণবশতঃ’ স্থগিত করা হয়েছে। এই ‘অনিবার্য’ কারণটি আসলে কী হতে পারে?

এ বিষয়ে পার্বত্য গবেষক সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ ইবনে রহমত তাঁর ফেইসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘এটা বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভাটি যদি পূর্বনির্ধারিত হতো, তাহলে একই দিন (১৮ জানুয়ারি রবিবার) সকাল ১০টায় ঢাকার বেইলী রোডের পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে প্রশাসনিক সমন্বয় সভাটি আয়োজন করা হতো না। তার মানে হলো, যে কারণেই হোক কোনো একটি পক্ষের চাহিদার কারণে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভাটি আয়োজন করা হয়েছে এবং সে কারণে ঢাকার পূর্বনির্ধারিত সভাটি স্থগিত করতে হয়েছে।’

তিনি তাঁর স্ট্যাটাসে আরো উল্লেখ করেন যে, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে আর এক মাস সময়ও নেই। চলছে নির্বাচনী তৎপরতা, এর মধ্যেই তাড়াহুড়ো করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভা করার আগ্রহ কোন পক্ষের থাকতে পারে? সরকারের নাকি অন্য কারোর? প্রশাসনিক ফিসফাস থেকে যতটুকু বোঝা যাচ্ছে, সরকারের দিক থেকে এই সময় এসব বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ না থাকলেও জেএসএসের পক্ষ থেকে বিশেষ আগ্রহের কারণেই এটা হচ্ছে। আর সেকারণেই পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং যুগ্ম সচিব কংকন চাকমার বিশেষ তৎপরতায় এই বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে।’

জানা যায়, এর আগে এমন একটি বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা বলেই পার্বত্য মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা অফিস আদেশে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগ/দপ্তর/বিষয় সম্পর্কে আলোচনার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে ১০ সদস্য বিশিষ্ট যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর জারি করা এক অফিস আদেশে পূর্বের আদেশ সংশোধন করে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগ/দপ্তর/বিষয় সম্পর্কে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ চিহ্নিতকরণ ও তার সমাধানের উপায় নির্ধারণে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। যার সভাপতি আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য সচিব আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম কুমার চাকমা।

পার্বত্য বিশ্লেষকরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভার সিদ্ধান্তের কথা বলে একটি প্রশাসনিক কমিটিকে পরিপূর্ণভাবে আঞ্চলিক পরিষদ তথা জেএসএস এর পকেট কমিটিতে রূপান্তর করা হয়েছে। আগামীকাল ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আগের বিতর্কিত সিদ্ধান্তসমূহের অনুমোদন এবং এমনই আরো যত সম্ভব বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত করার চূড়ান্ত আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবশ্যই স্পর্শকাতর ইস্যু, অন্তর্বর্তী সরকারের এই শেষ সময়ে আর কোনো প্রশাসনিক ক্যু’র সাথে সংশ্লিষ্ট হোক, তা পার্বত্যবাসী আশা করে না।

পার্বত্যবাসীর দাবি, যেকোনোভাবেই হোক এটা বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনের পর স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে, তখন এসব বিষয়ে গভীর বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই সরকারের সংশ্লিষ্টরা পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে যে যথেষ্ট অভিজ্ঞ না, আর তাদের ব্যবহার করে সন্তু লারমা যে তার নিজের খেয়াল খুশিমত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করিয়ে নিতে পারেন, সেটা তো আগের বৈঠক সম্পর্কে যারা ওয়াকিবহাল তাদের ভালোভাবেই জানা থাকার কথা। অতএব, এই সময় প্রশাসনিক ক্যু করার পথ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তা নাহলে পরবর্তী সরকারের কাঁধে পার্বত্য সমস্যা আরো জটিল আকার ধারণ করবে, যার থেকে হয়তো বের হওয়ার পথ পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন পার্বত্য অঞ্চলের সচেতন নাগরিক ও বিশ্লেষকরা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন