যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এমনই একটি মুহূর্ত। যা শুধু আমেরিকার ইতিহাসের একটি মাইলফলক নয়; এ হলো সেই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্যও একটি সংকেত, যা দীর্ঘদিন আমেরিকান শক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এবং এখন একটি রূপান্তরের পর্যায়ে—কক্ষপথে প্রবেশ করছে।
বাংলাদেশের নীতি নির্ধারকদের জন্য এই রূপান্তরকে কেবল দূরবর্তী ভূরাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়; একে একটি কৌশলগত সতর্কবার্তা হিসেবে আমলে নেয়া জরুরি।
এই ধারাবাহিকের প্রতিটি পর্ব America at 250: At Home and Beyond শুধু একটি পরাশক্তির ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণকে বিশ্লেষণ করেনি; বরং এটি এমন একটি আয়না হয়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও সম্ভাব্য মধ্যম শক্তিতে রূপান্তরকামী রাষ্ট্রগুলো নিজেদের ভবিষ্যৎকে দেখতে পারে। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের কারণে পরিবর্তনশীল পররাষ্ট্রনীতি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি তার ক্রমবর্ধমান মনোযোগ একটি বৃহত্তর সত্যকে সামনে আনে—একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত পরিবেশ স্থিতিশীলতার চেয়ে ধারাবাহিক অভিযোজনের মাধ্যমে বেশি নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশের মতো সম্ভাব্য মধ্যম সামুদ্রিক শক্তির জন্য এই অভিযোজনই হয়তো টিকে থাকার প্রধান শর্ত হয়ে উঠবে।
আগামীর পৃথিবী আমাদের পরিচিত সেই পৃথিবীর মতো হবে না, যেখানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। অতীতে ভূরাজনীতি তুলনামূলকভাবে পূর্বানুমেয় ছিল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মোটামুটিভাবে নির্দিষ্ট ধারায় চলত। নৌ পরাশক্তি সীমিত কয়েকটি রাষ্ট্রের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত ছিল। কূটনীতি মূলত ট্র্যাক ওয়ান তথা সরকারগুলোর মর্জির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু আগামীর যে শতাব্দী উন্মোচিত হচ্ছে, তা বাণিজ্য, কূটনীতি—ক্ষমতার গতি প্রকৃতিকেই বদলে দিচ্ছে।
সমুদ্রপথ এখনও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সমুদ্রতলের তথ্যপথও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বন্দর গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেগুলোকে সংযুক্ত করা ডিজিটাল নেটওয়ার্কও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধজাহাজ এখনও রাষ্ট্রীয় শক্তির, উপস্থিতির প্রতীক। কিন্তু স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সক্ষমতা এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সামুদ্রিক নজরদারি, পরিস্থিতি-সচেতনতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এমনকি নিখুঁত আঘাতের ধরনও বদলে দিচ্ছে।
অগ্রাধিকার হওয়া উচিত প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি। আগামী শতকের সামুদ্রিক প্রতিযোগিতা শুধু কার কাছে কতগুলো যুদ্ধজাহাজ আছে, তার ওপর নির্ভর করবে না। এটি নির্ধারিত হবে কে দ্রুত দেখতে পারে, বুঝতে পারে এবং সাড়া দিতে পারে—তার ওপর। সামুদ্রিক পরিস্থিতি-সচেতনতা, স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ, মনুষ্যবিহীন সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা এখন সার্বভৌমত্বের অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠছে।
রণকৌশলগত প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু আঞ্চলিক জলসীমায় সীমাবদ্ধ নেই, ক্রমশ তথ্যক্ষেত্র, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে।
এখানেই America at 250–এর শিক্ষাগুলো সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। বইটির বিশ্লেষণ দেখায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রও তার সামরিক সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও একটি রূপান্তরিত বিশ্বে নিজের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে। যদি একটি বৈশ্বিক পরাশক্তিকেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়, তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি রাষ্ট্রগুলোর আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের জন্য প্রশ্ন এখন আর কেবল সামুদ্রিক সীমানা রক্ষা করা নয়; বরং আরও বড় প্রশ্ন হলো—যে যুগে সামুদ্রিক কৌশল নিজেই নতুনভাবে লেখা হচ্ছে, সেই যুগের জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত?
আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত আরও বিস্তৃত কৌশলগত কল্পনাশক্তি। স্বাধীনতা পরবর্তী বহু বছর ধরে বাংলাদেশের সামুদ্রিক বিষয়ে ধারণা মূলত রাজনৈতিক প্রচার নীতিপত্র এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। দেশের সামুদ্রিক সীমানা নিষ্পত্তির পর এই সচেতনতা কিছুটা বিস্তৃত হতে শুরু করলেও তা প্রথমে সুনীল অর্থনীতির সীমিত আবেগি কাঠামোর মধ্যেই আবদ্ধ ছিল। জোর দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনিক সংস্কার এবং খাতভিত্তিক অগ্রাধিকারে—যেমন মৎস্য সম্পদ, উপকূল সুরক্ষা, বন্দর উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক নৌপরিবহণ সমৃদ্ধি ইত্যাদিতে।
এগুলো এখনও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এখন আর যথেষ্ট নয়। আজকের সামুদ্রিক কৌশল ট্র্যাডিশনাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার বাইরে গিয়ে অন্তর্ভুক্ত করছে জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি, সাইবার স্থিতিস্থাপকতা, জলবায়ু অভিযোজন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব। সমুদ্র আর শুধু অর্থনৈতিক সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়; ক্রমেই একটি কৌশলগত ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। এর অর্থ হলো: বাংলাদেশের নিজেকে শুধু নদীমাতৃক এবং সমুদ্রে প্রবেশাধিকার সম্পন্ন রাষ্ট্র হিসেবে নয়; বরং একটি নদীমাতৃক সামুদ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে হবে, যার ভবিষ্যৎ স্থায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা ক্রমেই উভয় সমীকরণে সমুদ্রকে মুখ্য নির্ধারক উপাদান বিবেচনায় রেখে নির্ধারিত হবে।
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি। আগামী শতকের সামুদ্রিক প্রতিযোগিতা শুধু কার কাছে কতগুলো যুদ্ধজাহাজ আছে, তার ওপর নির্ভর করবে না। এটি নির্ধারিত হবে কে দ্রুত দেখতে পারে, বুঝতে পারে এবং সাড়া দিতে পারে—তার ওপর। সামুদ্রিক পরিস্থিতি-সচেতনতা, স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ, মনুষ্যবিহীন সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা এখন সার্বভৌমত্বের অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি রাষ্ট্রগুলোর সাথে বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর প্রযুক্তি, আয়তন ও প্রভাবের ব্যবধান কমিয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশ হয়তো কখনও বৃহৎ নৌশক্তিগুলোর সমকক্ষ হবে না, কিন্তু অসমমিত (অ্যাসিমেট্রিক) সক্ষমতা, তথ্য, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল সামুদ্রিক দক্ষতার মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে। আগামী শতকে সবসময় সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রই সফল হবে না; বরং সবচেয়ে অভিযোজনক্ষম রাষ্ট্রই হয়তো সফল হবে।
তৃতীয় অগ্রাধিকার হতে পারে কৌশলগত সংস্কৃতি। অনেক রাষ্ট্র জাহাজ কেনে, তৈরি করে, কিন্তু সামুদ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারা গড়ে তোলে না। তারা হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগ করে, কিন্তু ডক্ট্রিন বা কনসেপ্টে নয়। অথচ টেকসই সামুদ্রিক শক্তি শুরু হয় বুদ্ধিবৃত্তিক মানসিকতার লালন থেকে। এর জন্য প্রয়োজন এমন নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ এবং গবেষক, যারা সমুদ্রকে জাতীয় শক্তির উৎস হিসেবে বোঝেন। প্রয়োজন এমন একটি জনগোষ্ঠী, যারা সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে কেবল বিশেষায়িত সামরিক বিষয় নয়, বরং টেকসই জাতীয় সমৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখেন। কৌশলগত সংস্কৃতি ছাড়া সামুদ্রিক সক্ষমতা কেবল কৌশলগত নয়, বরং সীমিত কার্যকরী শক্তিতে পরিণত হয়। কিন্তু কৌশলগত সংস্কৃতির মাধ্যমে সীমিত সামর্থ্যও প্রভাবশালী শক্তিতে রূপ নিতে পারে। আগামী শতাব্দীর বাংলাদেশ সেই সংস্কৃতি গড়ে তোলার সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ভারসাম্য রক্ষা করা। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত গভীর হবে, ছোট রাষ্ট্রগুলোর ওপর নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া ততটাই কঠিন হবে। পক্ষ নেওয়ার চাপও তত বাড়বে। কেউ কেউ প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে টান অনুভব করবে। কেউ আবার অবকাঠামোগত প্রতিযোগিতা বা কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে—গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা, কিন্তু কৌশলগত স্বাধীনতা হারিয়ে না ফেলা।
চতুর্থ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ভারসাম্য রক্ষা করা। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত গভীর হবে, ছোট রাষ্ট্রগুলোর ওপর নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া ততটাই কঠিন হবে। পক্ষ নেওয়ার চাপও তত বাড়বে। কেউ কেউ প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে টান অনুভব করবে। কেউ আবার অবকাঠামোগত প্রতিযোগিতা বা কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে—গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা, কিন্তু কৌশলগত স্বাধীনতা হারিয়ে না ফেলা।
সম্ভবত এটিই হবে আগামী দশকগুলোর সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা। সফল সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নিজেকে বড় শক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করবে না। আবার তাদের হাতে নিজের সিদ্ধান্তও সমর্পণ করবে না। বরং জাতীয় নমনীয়তা বজায় রেখে বহুমাত্রিক সম্পৃক্ততা বজায় রাখবে। যেখানে স্বার্থের মিল থাকবে, সেখানে সহযোগিতা করবে; আর যেখানে নির্ভরশীলতা স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, সেখানে সতর্ক থাকবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বে ভারসাম্য নিজেই এক ধরনের শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
পঞ্চম অগ্রাধিকার হতে পারে স্থিতিস্থাপকতা (রিজিলিয়েন্স)। আমেরিকার অভিজ্ঞতার একটি গভীর শিক্ষা হলো—বহিরাগত শক্তিকে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা থেকে আলাদা না করা। বড় শক্তিগুলোও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যদি অভ্যন্তরীণ সংহতি ভেঙে যায়। একই নীতি ছোট রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে, সুশাসন অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে বা জাতীয় অগ্রাধিকার অস্পষ্ট থাকলে সামুদ্রিক কৌশল কখনও সফল হতে পারে না। বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যৎ সামুদ্রিক কৌশল নির্ভর করবে শুধু নৌ-আধুনিকায়নের ওপর নয়, বরং—জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত করে এমন পলিসির সমন্বয়, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও লালন করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং জাতীয় ঐকমত্যের প্রাধান্যের ওপর।
কারণ আগামী শতকে সবচেয়ে শক্তিশালী সামুদ্রিক রাষ্ট্র সবসময় সবচেয়ে বড় নৌবহরের অধিকারী রাষ্ট্র নাও হতে পারে; বরং সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষ্যবোধসম্পন্ন রাষ্ট্রই হয়তো হবে। এ কারণেই আমেরিকার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমেরিকার সীমানার বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ক্ষমতা কখনও স্থায়ী নয়। প্রতিটি রাষ্ট্র, বড় হোক বা ছোট, একসময় এমন এক মুহূর্তে পৌঁছে যখন তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়—সে ইতিহাসের সঙ্গে অভিযোজিত হবে, নাকি ইতিহাস তাকে নিজের মতো গড়ে নেবে। যুক্তরাষ্ট্র আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে তাকে সেই বিশ্বে নিজের ভূমিকাকে পুনর্নির্ধারণ করতে হচ্ছে, যে বিশ্বকে একসময় সে নিজেই অনেকাংশে সংজ্ঞায়িত করেছিল।
বাংলাদেশও হয়তো শিগগিরই এমন এক মুহূর্তের মুখোমুখি হবে। পার্থক্য হলো—ছোট রাষ্ট্রগুলোর, বিশেষত যারা অর্থবহ সামুদ্রিক শক্তি হতে চায়, তাদের হাতে সাধারণত সময়ের বিলাসিতা থাকে না। বাংলাদেশের জন্য আগামী শতকের সামুদ্রিক কৌশল শুরু হওয়া উচিত সংকট আসার পরে নয়, বরং তার আগেই। বঙ্গোপসাগরের ভবিষ্যৎ শুধু বৃহৎ শক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষা দ্বারা নির্ধারিত হবে না; এটি নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ সমুদ্রকে কেবল দূরবর্তী সীমানা হিসেবে দেখবে, নাকি নিজের কৌশলগত দিগন্ত হিসেবে গ্রহণ করতে চায়—তার ওপর!
যে শতাব্দী আমাদের সম্মুখে উন্মোচিত হচ্ছে, সেখানে যে জাতিগুলো নিজেদের উপকূলের বাইরে ভাবতে ব্যর্থ হবে, তারা একদিন হয়তো আবিষ্কার করবে—ইতিহাস ইতিমধ্যেই তাদের পাশ কাটিয়ে নতুন দিগন্তে পাড়ি জমিয়েছে।
লেখক : মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিআইএমআরএডি)। উৎস : বাংলাস্ট্রিম অনলাইন
