আরাকানে মসজিদের মাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল আরাকান আর্মি


আরাকানে রাজ্যের বুই তাউং এলাকায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে আরাকান আর্মি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রোহিঙ্গা খবরের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলা হয়, আরাকান আর্মির সদস্যরা বুথিডং শহর এবং আশেপাশের গ্রামগুলির বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন এবং মসজিদ কমিটি এবং সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাথে দেখা করেছেন। বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে দলটি আজানের জন্য লাউডস্পিকার ব্যবহার নিষিদ্ধসহ বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান যে মসজিদগুলিকে উচ্চ শব্দ ছাড়াই আযান দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি আরাকান আর্মির নির্দেশনা না শুনলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল।
নির্দেশনা গুলো হলো,
১. মসজিদে আজান বা নামাজে লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে না; মাইক ব্যবহার করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২. বনাঞ্চলে গিয়ে কাঠ কাটা বা গাছ সংগ্রহ করা যাবে না; বন এলাকায় কাউকে পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
৩. রোহিঙ্গা মুসলিম নারী-পুরুষদের সন্ত্রাসী আরাকান আর্মির বাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথাও বলেছে সন্ত্রাসী আরাকান আর্মি।
স্থানীয়রা বলছেন, বহু মানুষ পাহাড়ি এলাকা থেকে কাঠ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা তাদের জীবিকার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এক মানবাধিকারকর্মীদের মতে, মসজিদে লাউডস্পিকারে আজান নিষিদ্ধ করা ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থি এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। আরাকান আর্মি একদিকে মসজিদগুলো ধ্বংস করছে, অন্যদিকে টিকে থাকা মসজিদগুলোতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংস্থার উচিত আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ধর্মীয় এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় আরাকান আর্মিকে আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত সন্ত্রাসী হিসেবে নিষিদ্ধ করা।
আরাকান আর্মি প্রকাশ্যে আরাকানের মুসলমানরা ধর্ম পালনের স্বাধীনতার কথা বললেও বাসিন্দারা বলেছেন যে এই বিধিনিষেধগুলি তাদের কষ্ট বাড়িয়েছে এবং ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।

















