ভারতের উত্তর প্রদেশে মুসলিম শিক্ষককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা


ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাও দানিশ আলীকে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা গুলি করে হত্যা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলানা আজাদ লাইব্রেরির কাছে ২৪ ডিসেম্বর তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শিক্ষককে নির্মমভাবে হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ ধরে আলীগর পুলিশ তদন্ত করছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম নিউজ১৮ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, নিহত ব্যক্তির নাম রাও দানিশ আলী, যিনি দানিশ রাও নামেও পরিচিত, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিকে হাই স্কুলের কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি গত ১১ বছর ধরে শিক্ষকতা করছিলেন। ঘটনার দিন মৌলানা আজাদ লাইব্রেরি এলাকার কাছে রাত পৌণে ৯টার দিকে গুলি করে তাকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
এই শিক্ষককে গুলি ও হত্যার ২দিন পর ঘটনার চাঞ্চল্যকর সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। এতে অপরাধের এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য উঠে এসেছে। কেনেডি হলের কাছে ধারণ করা এই ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিকে স্কুলের শিক্ষক রাও দানিশ আলীর শেষ মুহূর্তগুলি দেখা যায় বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়।
ঘটনার সময় আলির পাশেই হাঁটছিলেন ইমরান, তিনি সাংবাদিকদের জানান, গুলির ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে এক হামলাকারী হুমকি প্রদান করেছিল। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান জানান, হামলাকারী তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল, ‘‘তুমি এখনও আমাকে চেনো না, এখন চিনবে।’’ আলিকে খুব কাছ থেকে কানের কাছে গুলি করা হয় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
মোহাম্মদ ওয়াসিম আলি নামে নিহত শিক্ষকের এক আত্মীয় স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, গুলি লাগার পরপরই দানিশ লুটিয়ে পড়েন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তার ওমরাহ পালন করতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ ওয়াসিম আলীর বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যম বলছে, ২৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে দানিশ তার দুই সহকর্মীর সাথে কেনেডি অডিটোরিয়ামের কাছে হাঁটছিলেন। এসময় স্কুটারে আসা দুই ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একজন বন্দুকধারী বলে ওঠে, “তুমি এখনো আমাকে চেনো না, এখন চিনবে,” এবং এরপরই গুলি চালায়। দানিশের মাথায় অন্তত দুটি গুলি লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত জওহরলাল নেহেরু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিনিয়র পুলিশ সুপার নীরাজ জাদোন সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন, দুই হামলাকারীই দানিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্তে ৬টি দল গঠন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং নিহতের পরিবার ও সহকর্মীদের সাথে কথা বলা হচ্ছে। এসএসপি জাদোন বলেন, ‘‘আমরা ব্যক্তিগত শত্রুতা সহ সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছি। খুব শীঘ্রই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।’’
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিধানসভায় রাজ্যের উন্নত আইন-শৃঙ্খলার প্রশংসা করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই এই ঘটনাটি ঘটল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাইমা খাতুন হাসপাতালে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করেন এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। ঘটনার পর ক্যাম্পাস জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে কুয়াশা এবং অন্ধকারের কারণে সিসিটিভি ফুটেজ খুব একটা স্পষ্ট নয় বলে জানা গেছে।
কে এই রাও দানিশ আলী?
রাও দানিশ আলী ২০১৫ সাল থেকে এবিকে হাই স্কুলে শিক্ষকতা করছিলেন। তিনি এএমইউ-এরই প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন এবং একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্স রাইডিং ক্লাবের ক্যাপ্টেন ছিলেন।দানিশ মূলত দিবাই এলাকার বাসিন্দা এবং তার বাবা অধ্যাপক হিলাল ও মা—উভয়েই এএমইউ-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। তার শ্বশুর ফিদা উল্লাহ চৌধুরী মোরাদাবাদের কাঁঠ কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক ছিলেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া

















