আলীকদমে ইফার গণশিক্ষা কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

fec-image

বান্দরবানের আলীকদমে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষককের বেতন আত্মসাৎ, নানা অজুহাতে কেন্দ্র বাতিল ও শিক্ষকদের চাকুরি খোয়ানো নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এ প্রকল্পের ১২ জন শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিন অনুসন্ধনে এ সব তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আলীকদম ফিল্ড সুপারভাইজার, দুইজন সাধারণ কেয়ারটেকার ও একজন শিক্ষকের সিন্ডিকেট এ প্রকল্পের শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন।

সাধারণ কেয়ারটেকার মোঃ নাজের উদ্দিন বলেন, এ প্রকল্পে কর্মরত শিক্ষকদের বেতন ভাতা বন্ধের হুমকি দিয়ে প্রতিমাসে মোটা অংকের অর্থ আদায় করছেন ফিল্ড সুপারভাইজার ও তার অনুগত দুইজন কেয়ারটেকার ও একজন শিক্ষক। তিনি বলেন, এ প্রকল্পে কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষক গরীব। কিন্তু তাদেরকে বেতনভাতা প্রদান করা হয় ৪ থেকে ৬ মাস পর। এ সব বেতন থেকেও আবার নানা অজুহাতে টাকা কর্তন করা হয়।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, যাকাতের কথা বলে প্রত্যেক শিক্ষক থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫শ’ টাকা হারে নেওয়া হয়েছে। উত্তোলিত যাকাতের টাকা সঠিকভাবে রশিদমূলে জমা করা হয়নি।

স্থানীয় বায়তুল মামুর জামে মসজিদ ও আটরশী খানকা শরীফে এ প্রকল্পে শিক্ষাকেন্দ্রটি ঠুনকো অজুহাতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জাকিয়া সুলতানা পারভীন নামের এক শিক্ষিকা মুঠোফোনে জানান, তাঁর কেন্দ্রটি কেন বাতিল করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। ২০১৮ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি চাকুরি করলেও তাকে বেতন দেওয়া হয়েছে তিনমাসের। মোহাম্মদ ফারুক নামে অপর একজন শিক্ষকও বিনা অজুহাতে কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইসালামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় আলীকদমে ৮০টি শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে এ সব শিক্ষাকেন্দ্রসমুহে কাঙ্খিতমানের কার্যক্রম নেই। প্রকল্পের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও চলছে জোড়াতালি দিয়ে। এ প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজারদের কর্মকান্ড নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।

অভিযোগে বিষয়ে জানতে চাইলে ফিল্ড সুপার ভাইজার শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সত্য নয়। কয়েকজন শিক্ষক উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব অভিযোগ করছেন। তদন্তে তা প্রমাণিত হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × five =

আরও পড়ুন