আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যানকে যে কোন মাহফিলে প্রধান অতিথি না করার আহ্বান

fec-image

আলীকদম উপজেলায় আগামীতে যে কোন ওয়াজ মাহফিল রাজনৈতিক কারণে যাতে আর বন্ধ করা না হয় এই জন্য তাকে প্রধান অতিথি না করার অনুরোধ করে ফেইসবুকে নিজের টাইম লাইনে স্ট্যাটাস দিয়েছে আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম।

নিম্নে তা হুবহু তুলে ধরা হলো-
সম্মানিত আলীকদম উপজেলা বাসী ও ফেসবুক বন্ধুগণ সকলের জ্ঞাতার্থে মাহফিল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে আপনাদের সবাইকে অবহিত করছি। দীর্ঘ ২৫ বছর যাবৎ অত্র এলাকার প্রায় ষাট সত্তরটি মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসাবে মাহফিল পরিচালনা কমিটি কর্তৃক আমাকে দাওয়াত দিয়ে সম্মানিত করেছেন, এই জন্য মাহফিল পরিচালনা কমিটির সকলের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ হয়ে রইলাম।

গত ২৬-০১-২০২১ তারিখে আলীকদম উপজেলার চৈক্ষং ইউনিয়নের কাশেম মেম্বার পাড়া নূরানী কফেলা মাহফিল নিয়ে কয়জন ব্যর্থ রাজনৈতিক পলিটিশিয়ান পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এলাকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে মাহফিল বন্ধ করার ব্যবস্থা করেছেন।
“কোরআন সুন্নার মাহফিল বন্ধ করার অর্থ হল ইসলাম বিরোধী মনোভাব ও গর্হিত কাজ।

এতে কাফের মুশরিকদের খুশি করা ছাড়া অন্য কিছু বিকল্প কিছু দেখছি না। “আমি তাদের প্রতি তীব্র নিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করছি।

এটি আলীকদম উপজেলা চৈক্ষং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে মাহফিল বন্ধ করার দ্বিতীয় ঘটনা। “আমার জানামতে স্বাধীন বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে রাজনৈতিক উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের মাধ্যমে মাহফিল বন্ধের বিষয়ে অন্য কোন সময় পরিলক্ষিত হয়নি। “কিন্তু  স্থানীয় কিছু নেতাদের ব্যক্তি ক্ষমতা জানান দিতে পরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমে মাহফিল বন্ধ হওয়ার অতীতের রেকর্ড অত্র উপজেলার গণমানুষের কাছে বিদ্যমান।

সুতরাং মাহফিল বন্দের ঘটনা প্রমানীত ব্যক্তিদের মুনাফিকত্ব প্রকাশ পেল, যদি সেখানে আমি ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকি আমার বেলায়ও একই বক্তব্য।

“প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মুফতি আমির হামজার মাহফিলের জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর অনুমতির আবেদনে, স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবু মংব্রাচিং মার্মা ও বাবু দূংড়ি মং মার্মা সম্মানিত জেলা পরিষদের সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক আলীকদম উপজেলা আওয়ামী লীগ, উনারা দুইজন উপজাতি সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ার পরেও সুপারিশ করেছেন যা আমরা আবেদনে দেখতে পাই।

পাহাড়ি সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদয় হয়েও কোরআনের মাহফিল অবদানে সুপারিশ করায় আমাদের সমাজের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। অন্যান্য যারা সুপারিশ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইল। “দেশে অতীতসহ বর্তমানে ওয়াজ মাহফিল নিয়ে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র আমাদের সকলেরই জানা এবং বিদ্যমান।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সঃ)সহ সাহাবীদের আমলে ইসলাম ধর্ম প্রচারের সময়েও কাফের মুশরিকদের দ্বারা বাধা প্রদান করা হয়েছে যা পবিত্র কুরআন ও হাদিসে স্বীকৃত।

আমাদের সকল মুসলমানদের নৈতিক দায়িত্ব কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলেমদের ওয়াজ মাহফিলে সহযোগিতা করা। যারা এই কাজে সহযোগিতা করেন তারা দুনিয়াতে আল্লাহর রহমত এবং পরকালীন সময়ে শ্রষ্ঠার নৈকট্য লাভসহ মুক্তি হাসিল হয়। আমার পক্ষ থেকে প্রতিটি ওয়াজ মাহফিল অতীতে সহযোগিতা ছিল বর্তমানও চলমান আগামীতেও সার্বক্ষণিক সহযোগিতা থাকবে ইনশাআল্লাহ।

আলীকদম উপজেলা সকল মসজিদ মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ অতীতের পঁচিশ বছর যাবত আমাকে বাদ দিয়ে অন্যদের ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি করেননি, এতে প্রমাণিত হয় অন্য নেতারা তাদের পছন্দের নয়।

মূল কথা হলো সকলেই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারেন না। গণমানুষের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে আমি আল্লাহর রহমত অর্জন করেছি, যার দরুন বর্তমান সময়ে আলীকদম উপজেলার সকল সম্প্রদায় নিঃস্বার্থ ভোট দিয়ে আমাকে চারবারের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেন। এই জন্য আজীবন অত্র উপজেলার সকল সম্প্রদায়ের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

পরিশেষে আলীকদম উপজেলার সকলের নিকট অনুরোধ। অত্র উপজেলার সকল ওয়াজ মাহফিল বিবাদ মুক্ত রাখতে আমাকে মাহফিলে প্রধান অতিথি না করার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।

উল্লেখ্য আলীকদম উপজেলার চৈক্ষং ইউনিয়নে গত ২৬ জানুয়ারি একটি মাহফিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − five =

আরও পড়ুন