মাটিরাঙা পৌরসভায় ভোটাররা বিগত নির্বাচনে রক্তাক্ত সহিসংতার স্মৃতি নিয়ে আতঙ্কিত

আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপি সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কায়

fec-image

প্রতীক বরাদ্দের পর খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা পৌরসভার নির্বাচনী মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। কনকনে শীত উপেক্ষা করে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি-ঘরে। চলছে উঠোন বৈঠকসহ গণসংযোগ। শহরে চলছে মাইকিং। প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে অলিগলি। প্রার্থীরা দিচ্ছে নানা প্রতিশ্রুতি। মেয়র পদে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর বাইরেও আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। প্রচারণায় পিছিয়ে নেই কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের নারী প্রার্থীরাও।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে দাবি করলেও বিএনপিআওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা নানা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। ভোটাররাও বিগত পৌরসভা নির্বাচনে প্রাণহানিসহ রক্তাক্ত সহিসংতার স্মৃতি নিয়ে আতঙ্কিত। পক্ষান্তরে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবাধ-সুষ্ঠ নির্বাচনে জিরো টলারেন্স নীতিতে খাগড়াছড়ি সদর পৌরসভার মত মাটিরাঙা পৌরসভার নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে।

৪র্থ ধাপে আগামী ১৪ ফের্রুয়ারি অনুষ্ঠিব্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৯৭৫ জন। পুরুষ ও নারী ভোটার প্রায় সমান।

মাটিরাঙা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. শামসুল হক, বিএনপির শাহজালাল কাজল ও দলের মনোনয়ন না পেয়ে মাটিরাঙা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মাটিরাঙা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪০ জন ও সংরক্ষিত নারী তিন আসনের মধ্যে একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও অপর দুই আসনে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

এই তিন মেয়র প্রার্থী কনননে শীত উপেক্ষা করে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি-ঘরে। চালাচ্ছেন উঠোন বৈঠকসহ গণসংযোগ। তবে সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কিত। বিগত ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে নির্বাচনী সহিসংতায় মাটিরাঙ্গায় উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম নিহত হয়।

এছাড়া নির্বাচনের দিন প্রতিপক্ষের এজেন্ট ও সমর্থকদের উপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সে সব স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেননি ভোটাররা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বেশ কয়েকজন ভোটার অভিযোগ করেন, বিগত সবগুলো নির্বাচনে কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে তারা হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছে। তাদের একটাই দাবি নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ। তাহলে তারা ভোট কেন্দ্রে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে যাবেন।

মাটিরাঙা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বর্তমান মেয়র মো. শামসুল হক। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলমও বসে নেই। প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে নেই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও মাটিরাঙা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল কাজলও। বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।

ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী নির্বাচন অবাধ ও সুস্থ হবে দাবি করলেও নানা শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিএনপিআওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।

মাটিরাঙা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজালাল কাজল বলেন, এখনো ভোটের মাঠে কোন সমস্যা হয়নি। তবে বিগত পৌরসভা নির্বাচনে সংঘটিত প্রাণহানিসহ সহিংস ঘটনায় ভোটাররা আতঙ্কিত। ভোট অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত হলে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় হবেন বলে তিনি দাবি করেন।

অপর দিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এমএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নয় ওয়ার্ডের নয় কেন্দ্রে একটি করে ভোট পেলেও সরকারি দলীয় প্রার্থী জয়ী হবে এমন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তাকে দল থেকে বহিস্কার প্রসঙ্গে এমএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যারা আমাকে বহিস্কারের কথা বলছেন, তারা নিজেরা অনুমোদিত না। অ-অনুমোদিত কমিটির কর্তা-ব্যক্তিরা আমাকে কি করে বহিস্কার করেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে এমএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বার বার অযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ায় আমি বঞ্চিত নাগরিকদের প্রার্থী হয়েছি। যে দলে নীতি, চরিত্র, সততা,যোগ্যতা ও আদর্শের মূল্যায়ন নাই, তারা আমাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দিয়েছে, আমি গণমানুষের কাতারে এসে দাঁড়িয়েছি। এটা আমার জন্য সুখকর ও আনন্দের।

প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. শামসুল হক বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোর মতো এবারের মাটিরাঙা পৌরসভার নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। তিনি ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে এসে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

মাটিরাঙা পৌরসভা নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাজু আহমেদ বলেন, বিগত পৌরসভা নির্বাচনে রক্তাক্ত সহিংসতার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অবাধ-সুষ্ঠ নির্বাচনে জিরো টলারেন্স নীতিতে খাগড়াছড়ি সদর পৌরসভার মত মাটিরাঙা পৌরসভার নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে অনুষ্ঠিত মাটিরাঙা পৌরসভা নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা বর্ষিত হবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আ’লীগের, আর বিএনপি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − 9 =

আরও পড়ুন