খাগড়াছড়িতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায়

আ’লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী রফিকুল আলমের ইভিএম শঙ্কা প্রকাশ

fec-image

দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য খাগড়াছড়ি পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী মো. রফিকুল আলম ইভিএম নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে জনগণ যদি ভোট দিতে পারে তার বিজয় নিশ্চিত দাবি করে ভোট গ্রহণে স্বচ্ছতার মানদণ্ড নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

শুক্রবার (১ লা জানুয়ারি) সকালে তার বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এমন সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বলেন, খাগড়াছড়ি পৌরসভায় মাস্টার প্লান অনুয়ায়ী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, বৈষম্য হয়নি।

তিনি বলেন, কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমি দায়িত্বে আছি, এ কারণে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতে পারে। তিনি নিজেকে আবারও সম্মিলিত নাগরিক কমিটির মনোনীত প্রার্থী দাবি করে বলেন, ২০৩৭ সালে খাগড়াছড়ি পৌরসভা কি হতে পারে সেই মাস্টার প্লান নিয়ে এগুচ্ছে।

তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি পৌরসভার অসমাপ্ত কাজ শেষ করে পরিবেশবান্ধব, যানজটমুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন পর্যটন নগরী গড়ার অঙ্গিকার করেছেন।

তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি পৌরসভা জরাজীর্ন প্রতিষ্ঠান ছিল। সেখান থেকে উন্নয়নমুখী একটি প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করা হয়েছে। পরিকল্পিত আধুনিক শহর করতে মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ চলছে। পরপর দুইবার পৌরবাসী আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার পর এ পৌরসভাকে একটি আস্থার ঠিকানা ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এডভোকেট আকতার উদ্দিন মামুন, সম্মিলিত নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব হোসেন আহম্মদ চৌধুরী, সদস্য তাজুল ইসলাম বাদল, আব্দুল মোমিন, আব্দুল জব্বার ও নুরুন্নবীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, বর্তমান পৌর মেয়র মো. রফিকুল আলম নৌকা প্রতীকের প্রত্যাশি থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে পাল্টা শো-ডাউন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তিনি এবার মোবাইল প্রতীক পেয়েছেন। গত ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত  খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে পাঁচ প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বর্তমান মেয়র মো. রফিকুল আলম সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতীক নিয়ে ৯ হাজার ৪শ ১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর এ পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় পাল্টা-পাল্টি হামলা-মামলা। মো. রফিকুল আলমের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে তারই বড় ভাই খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম দলীয় পদ হারান। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি সদরসহ জেলার তিন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর প্যানেল তৈরি করতে বিশেষ বর্ধিত হয়েছে। ওই সভায় খাগড়াছড়ি সদর পৌরসভায় মেয়র পদে ৭ জনের নাম প্রস্তাব আছে। পরে ওই প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী, বর্তমান পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য পার্থ ত্রিপুরা জুয়েলের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ১৮ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ মনোনয়ন চুড়ান্ত হয়।

খাগড়াছড়ি পৌরসভায় আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ হবে। এবার মোট ভোটার ৩৭ হাজার ৮৭ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২০ হাজার ৩৫১ জন ও নারী ভোটার ১৬ হাজার ৭শ ৩৬ জন। খাগড়াছড়ি পৌরসভায় ভোট কেন্দ্র ১৮ আর বুথ ১০৯টি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আ’লীগের, ইভিএম, বিদ্রোহী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × one =

আরও পড়ুন