parbattanews

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার -২ আসনে উভয় দলে রয়েছে একাধিক মনোয়ন প্রত্যাশী

আবদুল্লাহ নয়ন, কক্সবাজার:

দেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজারে আসন্ন ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসেছেন। দলীয়, ব্যক্তিগত কিংবা সামাজিক বিভিন্ন সভা-সেমিনারে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের সম্ভাব্য নির্বাচনের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন। আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ দলের উর্ধ্বতন মহলে কড়া নাড়ছেন ‘মনোয়ন’ প্রত্যাশায়। তবে আগামী নির্বাচনে কক্সবাজারের ৪টি আসনে রাজনীতির মোড় ঘুরে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

জাতীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সরকার-বিরোধীদলের নানা কর্মকাণ্ড সামনের নির্বাচনে দারুণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধীদল হিসেবে বিএনপি-জামায়াত জোটের ব্যর্থতা এবং সরকারী দল হিসেবে মহাজোটের ‘অসফলতা’কে জনগণ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বিশেষ করে পদ্মা সেতু দুর্নীতি, হলমার্ক কেলেংকারী, শেয়ার বাজারে ধ্বংস, ভিন্ন মতের উপর দমন-নিপীড়ন এবং হেফাজত ইস্যুকে পুঁজি করে নিজেদের জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন বিরোধীদল। আর ক্ষমতাসীনরা চাইছেন, স্বাধীনতার পক্ষ শক্তিকে ‘ব্যবহার’ করে পুনরায় বিজয় লাভ করতে। সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনের অর্ধ বছর অবশিষ্ট থাকলেও গ্রামে-গঞ্জে, শহর-বন্দরে এমনকি চা’র টেবিলেও চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। দৈনিক মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে। কক্সবাজারের ৪টি আসন নিয়ে ধারবাহিক প্রতিবেদনের আজ কক্সবাজার ২ আসন।

কক্সবাজার আসন ০২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) এ আওয়ামীলীগ-বিএনপি প্রধান নির্বাচনী দল হলেও জামায়ত এক বড় ‘ফ্যাক্ট’ হিসেবে কাজ করবে। কারণ এখন ওই আসনে রয়েছে জামায়াত সমর্থিত এমপি। কিন্তু আওয়ামীলীগ সমর্থিতরা চাচ্ছেন এমপি হামিদ আযাদের ব্যর্থতাকে তুলে ধরে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডগুলো ফুটিয়ে তুলতে।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় হামিদুর রহমান আযাদের প্রতিশ্রুতি ছিল- মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার চারপাশে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মহেশখালী-জনতা বাজার সড়ক ও কুতুবদিয়ার আজম সড়ক নির্মাণ। গাইড ওয়ালসহ সব কালভার্ট নির্মাণ, লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ, প্রকৃত পান চাষীদের ঋণ সুবিধা প্রদান, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াকে সন্ত্রাস মুক্ত করা ইত্যাদি। কিন্তু তিনি তা পুরণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে ব্যর্থতা কথা মানতে নারাজ বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত লোকজন।

মহেশখালী দক্ষিণ শাখা জামায়াতের আমির জাকের হোসেন জানান, সরকারের নিপীড়নের সময়ের মধ্যেও এলাকার সঙ্গে এমপি আযাদের সম্পর্ক রয়েছে। এলাকাবাসী তা মূল্যায়ন করে তার পক্ষেই রয়েছেন।

মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের বিশ্বস্থ সূত্র জানিয়েছেন, আসন্ন ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন আওয়ামী লীগের আনসারুল করিম, আশেক উল্লাহ রফিক ও অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা।

বিএনপির হয়ে মনোনয়ন চাইবেন সাবেক এমপি আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এবং কুতুবদিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী। এদিকে জামায়াতের এমপি এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে জাতীয় পার্টির পক্ষে কবির আহমদ সওদাগর নির্বাচনে অংশ নিবেন।

মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে দলের চেয়ারপার্সনের নির্দেশ রয়েছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমি নির্বাচন করবো এবং জয়ী হবো।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের নির্বাচনী খতিয়ান-১৯৮৬ সালের আগে কক্সবাজার-২ আসনের মহেশখালী ছিল সদর আসন এবং কুতুবদিয়া ছিল চকরিয়ার সঙ্গে। ১৯৮৬ সালে গঠিত মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে জাতীয় পার্টির উইং কমান্ডার (অব.) জহিরুল ইসলাম এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের মো. ইসহাক (বিএ) ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে বিএনপির আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ এমপি নির্বাচিত হন।

এদিকে তৃণমূল পর্যায়ে ভোটারদের মাঝে আগামী নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন আসলে হচ্ছে কিনা তা চিন্তা করার চেয়ে কে জিততে পারে, তাই এখন লোকমুখে শোনা যায়। তবে উভয় দলেই একাধিক প্রার্থী হওয়ায় এ আসনে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

Exit mobile version