ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ইউএনওকে স্মারক প্রদান

fec-image

রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ইউএনও এর নিটক স্মারক প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) শান্তনু কুমার দাশের নিকট স্মারক প্রদান করেন একই ইউপির ১১ জন সদস্য।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর ২০২১ সালে ইউপি নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণের পর চেয়ারম্যান মনগড়া প্রকল্প, পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা, ও পার্বত্য মন্ত্রণালয় হতে ১০০ মেট্রিক টন চাল আত্মসাত, ৪০ দিনের কর্মসূচি প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে নিজের বসতবাগানে প্রকল্প প্রদান ও এলজি এসপি ১ম ও ২য় কিস্তি পরিষদের সদস্যদের সমন্বয় না করা। ২০২১-২২ অর্থ বছরের উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস হতে কাবিখা, টিআর, নামে বেনামে প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের উঠেছে। এতে ইউনিয়বাসী নানা ধরনের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অভিযোগকারী ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য থুইসিং মং মারমা ও ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য শিমুল দাশ বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত হওয়ার পর সরকারি কোন কাজে আমরা সহযোগিতা পায়নি বরং পরিষদে গেলে আমাদেরকে নানানভাবে অস্মানজনক খারাপ ব্যবহার করেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য কোন প্রকার সার্বিক সহযোগিতা করেন না। তিনি শুধু একক ক্ষমতা ব্যয় করেন। তার খারাপ ব্যবহার ও বিভিন্ন প্রকল্প নামে বেনামে দিয়ে আত্মসাত করায় আমরা নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের সঙ্গে একমত পোষণ করে ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য বাপ্পিদেব বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাদের কোন পাত্তা দেয় না। বরাদ্দের বিষয়ে কোন কথা বললে তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমরা প্রতিবাদ করেও কোন সুরহা পাচ্ছিনা।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান আদোমং মারমা বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আমাকে বিপদে ফেলানোর জন্য সবাই উঠে পড়ে লেগেছে। আমি সাত মাস হয় দায়িত্ব নিয়েছি। কতটুকু বরাদ্দ পেয়েছি সেটা উপজেলা প্রশাসন অবগত আছেন। গত কয়েক দিন আগে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের জন্য টিআর, কাবিখা ও এলজি এসপি বরাদ্দ এনে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করেছি। তবে কী কারণে পরিষদের সদস্যরা আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছে তা আমি অবগত নয়। এটা মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে আমি মনে করি। পরিষদে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতার মধ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএন ও) শান্তনু কুমার দাশ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইউপি চেয়ারম্যান, দুর্নীতি, স্মারক প্রদান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − fourteen =

আরও পড়ুন