ইজতেমার মাঠে সাদপন্থিদের হামলায় রাঙামাটি তাবলীগের প্রতিবাদ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

টঙ্গিতে বিশ্ব ইজতেমার মাঠে সাদপন্থিদের হামলায় তাবলীগী সাথীদের আহত ও নিহত হওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে রাঙামাটি জেলা তাবলীগ জামায়াত

রাঙামাটি জেলা তাবলীগ জামায়াতের পক্ষ থেকে  পাঠানো এক বিবৃতিতে আলহাজ্ব মাওলানা মো. আবু বকর সিদ্দিক ও জিম্মাদার মো. হারুন খান এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারী-২০১৯ ইজতেমার ১ম পর্ব অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইজতেমাকে কামিয়াব করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে মাঠে প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হয়। এ কাজ বিভিন্ন কারণে বিলম্ব হয়েছে। ফলে তাবলীগের সাথী ও ঢাকার বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্ররা তিন দিনের জামায়াত করে মাঠে কাজে নিয়োজিত ছিল। এমতাবস্থায় নিজামুদ্দীনের মাওলানা সাদপন্থী বাংলাদেশের ওয়াসিফুল ইসলাম ও নাছিমগং এর অনুসারীরা নিরস্ত্র, নিরীহ তাবলীগের সাথী ও মাদ্রাসার ছাত্র-ওলামায়ের কেরামের উপর লাঠি-সোটা ও ধারালো অস্ত্র, ইট-পাটকেল নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় প্রশাসকের ভূমিকা ছিল নীরব ও রহস্যজনক দাবি করে বক্তরা বিবৃতিতে বলেন, পুলিশ দাড়িয়ে দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। শুধু তাই নয় বরং গেইট ভেঙ্গে তাদের কে ভেতরে প্রবেশ করতে সহায়তা করেছে। কিন্তু ইতিপূর্বে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছিল আপনারা ভেতরে অবস্থান করেন আমরা আছি। বাহির থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখা গেলো ভিন্ন। সরকার জোর স্থগিত করেছে তাহলে প্রশ্ন হলো সারা দেশ থেকে এসব হাজার হাজার সাদপন্থী টঙ্গীতে একত্রিত হলো কিভাবে? প্রশ্নের জবাব জাতি জানতে চায়।

বিবিৃতিতে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ভেতরে প্রবেশ করবে যাকেই সামনে পেয়েছে তার উপরই তারা ঝাপিয়ে পড়েছে। শত শত ছাত্র ও সাথীকে রক্তাক্ত করেছে। এ হামলায় নিহত হয়েছে মুন্সিগঞ্জের ইসমাইল মন্ডল ও অনেকে। আহত হয়েছে প্রায় ৫০০ শতাধিক। তারা  টঙ্গীর আশপাশের হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বেশ কিছু মাদ্রাসার কিছু শিশু ছাত্রদের ছিত্র দেখানো হয়েছে। তারা টঙ্গী মাঠের ভিতরে অবস্থিত মাদ্রাসার ছাত্র। তারা সর্বাক্ষণিক সেখানে থেকে পড়াশুনা করে। বাহির থেকে কেউ প্রবেশ করেনি বলে বিবিৃতিতে বলা হয়েছে।

রাঙামাটিতে সাদপন্থি তাবলীগ সাথীরা উগ্র আচরন করছে এমন অভিযোগ করে বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য জেলা সমূহের সাথে অন্য জেলার কার্যক্রম, পরিস্থিতি এক নয়। সে কারণে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার প্রশাসন উভয়পক্ষকে মতভেদ ভুলে গিয়ে তাবলীগের ৬ উসুলের মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলা মার্কাজ মানিকছড়ি কেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। দুঃখের বিষয় যে, সাদ সাহেবের কিছু অনুসারী প্রশাসনের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাঙ্গামাটি কৃষি ইনষ্টিটিউট (এটিআই) এর সিনিয়র প্রশিক্ষক মশিউর আলম, আব্দুল কুদ্দুস ও রমজান আলীর নেতৃত্বে হামলায় অংশ গ্রহণ করার জন্য টঙ্গী মাঠে যান। হামলা কার্যক্রম শেষে রাঙ্গামাটিতে পৌছে বিভিন্ন সাথীদেরকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি-দামকি দিয়ে চলছে। তাহাদের এহেন আচরণে রাঙ্গামাটি জেলার ওলামায়ে কেরাম ও তাবলীগের সাথীদের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উক্ত ব্যক্তিগণ প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসহ অত্র জেলায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সাদ পন্থীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ও তাবলীগি কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুনামের সহিত সকল মতভেদ ভুলে গিয়ে তাবলীগের ৬ উসুলের মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলা মার্কাজ মানিকছড়ি কেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিবৃতে আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

১। এই হামলার নির্দেশদাতা ওয়াসিফুল ইসলাম ও নাছিমগংসহ হামলার সাথে জড়িত সকলকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।

২।   আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩।  টঙ্গী ইজতেমা ময়দান এতদিন যেভাবে কাকরাইলের তাবলীগের শুরা ও ওলামায়ে কেরামের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে ঠিক একইভাবে পুনরায় তাবলীগের সাথী ও ওলামায়ে কেরামের অধীনে পরিচালনার জন্য দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।

৪।   অতিসত্বর কাকরাইলের সকল কার্যকলাপ হতে ওয়াসিফ ও নাছিম গংকে বহিস্কার করতে হবে।

৫। সারাদেশে ওলামায়ে কেরাম ও শুরা ভিত্তিক পরিচালিত তাবলীগের সাথীদের উপর হামলা, মামলা বন্ধ করে পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।

৬। টঙ্গীর আগামীর বিশ্ব ইজতেমা পূর্ব ঘোষিত ১৮, ১৯, ২০  ও ২৫, ২৬, ২৭শে জানুয়ারী-২০১৯ অনুষ্ঠানের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মওলানা সাদ অবৈধভাবে নিজেকে আমির দাবি করেছে উল্লেখ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ প্রায় শতাব্দীকাল যাবৎ অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তিন হযরত তথা হযরতজী ইলিয়াছ (রঃ) ১৯২৪ হইতে ১৯৪৫ইং হযরতজী ইউসুফ (রঃ) ১৯৪৫ হইতে ১৯৬৫ইং পর্যন্ত এবং হযরতজী এনামুল হাসান (রঃ) ১৯৬৫ হইতে ১৯৯৫ পর্যন্ত এ কাজে কোন মতবিরোধ ছিল না। তাদের ইন্তেকালের পর আমীর নিয়োগের ব্যাপারে মত বিরোধ দেখা দেয়। তখন সকলের ঐক্যমতে সিদ্ধান্ত গৃহীত একাজে একক কোনো আমীর আসবে না। বরং শুরা ও তাৎক্ষণিক ফয়সালার মাধ্যমে সকল কাজ সম্পাদিত হবে। উল্লেখ থাকে যে, হযরতজী ১০ জনের তালিকা প্রস্তুত করে যান। সেমতে ১৯৯৫ থেকে প্রায় ২০ বছর শুরার ভিত্তিতে একাজ পরিচালিত হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে মাওলানা সাদ সাহেব নিজেকে আমীর বলে দাবি করেন। অথচ কোনো পরামর্শ সভাতে তাকে আমীর নিযুক্ত করা হয়নি। অধিকন্তু তিনি বিভিন্ন সময় কোরআন সুন্নাহ বিরোধী এমন কিছু বক্তব্য প্রদান করেছেন যার উপর উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ইসলামী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দ সহ সারাবিশ্বের হকপন্থী আলেম সমাজ আপত্তি করে আসছেন। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় তিনি সকল ওলামায়ে কেরামের মতামতকে অপেক্ষা করে তার অবস্থান থেকে অব্যাহতভাবে ইসলাম বিরোধী বক্তব্য অব্যাহত রাখেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দাওয়াত ও তাবলীগের এ সুন্দরতম কাজের মাঝে মতবিরোধ দেখা দেয়। এমতাবস্থায় হকপন্থী সকল ওলামায়ে কেরাম সিদ্ধান্ত নেন মাওলানা সাদ তার শরীয়ত বিরোধী বক্তব্য প্রত্যাহার ও দারুল উলুম দেওবন্দের আস্থা অর্জন না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের দাওয়াত ও তাবলীগের কাজের ক্ষেত্রে  তার কোনো সিদ্ধান্ত কার্যক্রর হবে না। এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের দাওয়াত তাবলীগের মাঝে বিভুক্তি ঘটে। সিংহভাগ সাথী আমাদের সাথে একতা ঘোষণা করে শুরা ভিত্তিক দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অপর দিকে ক্ষুদ্র একটি সংখ্যা অতি নগন্য তারা বাংলাদেশে ওয়াসিফুল ইসলাম ও সাহাবুদ্দীন নাছিমের নেতৃত্বে মাওলানা সাদ সাহেবের অনুসরণে  তৎপর হয়ে উঠে এবং তারা ওলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার ছাত্র ও তাবলীগের সাথীদের সাথে বিভিন্ন জায়গায় মারমুখী আচরণ করতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরের ১ তারিখ টঙ্গী ময়দানে নিমর্মভাবে হামলা করে উপস্থিত মুসল্লিদেরকে পিটিয়ে আহত ও নিহত করেন। যা নজীরবিহীন ঘটনা।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

One Reply to “ইজতেমার মাঠে সাদপন্থিদের হামলায় রাঙামাটি তাবলীগের প্রতিবাদ”

  1. সা’দ পন্হীদর বিভ্রান্তিগুলো আলেমরাই মানুষের সামনে তুলে ধরছেন। তাদের বয়ান-বক্তৃতায় সাদপন্থীদের দল হাল্কা হচ্ছে। তাবলিগের সাথীরা সত্য জানতে পেরে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করছে। অধিকাংশই ফিরে এসেছে এবং বাকিরাও ফিরে আসবে খুব শীঘ্রই হয়তো। স্বাভাবিক কারণেই আলেমদের উপর তাদের ক্ষোভ কাজ করছে।

    একই ভাবে আলেমদের অনুসারী হিসেবে ছাত্ররাও একই কাজ করছে। তাই আগামী দিনের আলেমদের উপরও তাদের ক্ষোভ রয়েছে।

    আলেমদের গায়ে নিঃসঙ্কোচে হাততোলার ঘটনা শুধু মাঠ দখলের প্রশ্নে হয়েছে। নাকি দীর্ঘদিনের কোনো বিশ্বাস ও চিন্তার চর্চার কারণে তাদের মন-মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে। ফলে তারা অন্যায়কে অন্যায় মনে করছে না।

    এটা দীর্ঘদিনের প্রভাব বলেই মনে হচ্ছে আমাদের কাছে। যারা পূর্ব থেকে আলেম বিদ্বেষী ছিলো তারাই এখন মাওলানা সাদের অনুসারী হয়েছে। এখন তাদের বিদ্বেষ আরও বাড়ছে বা বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × two =

আরও পড়ুন