ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কথিত যৌথ আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)–ভুক্ত দেশগুলো রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
জিসিসির মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইওয়ি জানান, সদস্য দেশগুলো স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে তারা কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াবে না এবং তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। একই সঙ্গে তারা ইরানের হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ থেকেও বিরত রয়েছে।
বৈঠকে জোর দিয়ে বলা হয়, বর্তমান সংকটের সমাধান কেবল কূটনৈতিক উপায়েই সম্ভব। জিসিসি দেশগুলো আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা ঐক্যবদ্ধভাবে ইরান-এর ওপর চাপ প্রয়োগ করে হামলা বন্ধে উদ্যোগ নেয়।
আল-বুদাইওয়ি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও সম্ভাব্য অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও ‘নিষ্ঠুর আগ্রাসন’। ইতোমধ্যে সৌদি আরব ও কুয়েত-এর গুরুত্বপূর্ণ তেল হামলার শিকার হয়েছে।
জিসিসির বার্তা পরিষ্কার—সংঘাত নয়, বরং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান। তারা ইরানের সঙ্গে শত্রুতা নয়, বরং স্থিতিশীল ও সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।
