জুলাই অভ্যুত্থান বর্ষপূর্তির আজ ৫ আগস্টের উপজেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানেও বরাবরের মত উপেক্ষা, অবহেলা ও অমর্যাদার শিকার হয়েছেন জুলাই বিপ্লবে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া শহীদ নুরুল মোস্তফা ও তার পরিবার। সেই সাথে অতীতের মত গুরুত্বপূর্ণ এ অনুষ্ঠানেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি উপজেলার ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যম কর্মীদের। বিপ্লব পরবর্তীও উপজেলা প্রশাসনের ফ্যাসিবাদী ভূমিকায় অংশীজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল কালাম ও জামায়াত আমীর মাওলানা ছলিম উল্লাহ জিহাদী জানান,তাদের কেউ সরকারি এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাননি।
এ নিয়ে ঈদগাঁও উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন আল নোমান ক্ষোভের সাথে জানান, এত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও অতীতের মত গণমাধ্যম কর্মীদের আমন্ত্রণ না জানানো পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। তবে কি উপজেলা প্রশাসন পতিত আওয়ামী সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে এখনো?
শহীদের পিতা শফিউল্লাহর সাথে কথা হলে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, তার পরিবারের খোঁজ নিতে এবং শহীদ সন্তানের কবর জিয়ারতে কেউ আসেননি।
জুলাই যোদ্ধা এডভোকেট এসকে ফারুকী ক্ষোভের সাথে জানান,শহীদ নুরুল মোস্তফা ও তার পরিবারের প্রতি সম্মান দেখানো দূরে থাক , সৌজন্যতা দেখানোরও প্রয়োজন অনুভব করেননি উপজেলা প্রশাসন। যা বিপ্লবীদের আহত করেছে।
এ বিষয়ে জানতে সহকারী কমিশনার ভূমি কক্সবাজার সদর (অতিরিক্ত দায়িত্ব ঈদগাঁও উপজেলা) শারমিন সুলতানার সরকারি মোবাইল নাম্বারে বারবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।
এদিকে আজ ৫ আগস্ট মঙ্গলবার জুলাই বিপ্লবের প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে সকাল ১০ টায় ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুপস্থিতে সহকারী কমিশনার ভূমি কক্সবাজার সদর (অতিরিক্ত দায়িত্ব ঈদগাঁও উপজেলা) শারমিন সুলতানার নেতৃত্বে উপজেলার অপর জুলাই শহীদ নুরুল আমিনের সম্মানে পুস্প স্তবক অর্পণ ও কবর জেয়ারত করে পরিবারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
পরে সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলার অস্থায়ী সম্মেলন কক্ষে শাহ জালাল মনিরের উপস্থাপনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার ভূমি শারমিন সুলতানা, ইসলামপুর চেয়ারম্যান মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, জালালাবাদ চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি, ইসলামাবাদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) নুরুল ইসলাম, ঈদগাঁও চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হাকিম,থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ: মশিউর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা সুপার ভাইজার রাশেদুল হাসান, জুলাই যোদ্ধা এডভোকেট এসকে ফারুকী,আব্দুর রহিম চৌধুরী,হাবিব আজাদ,ইছমাইল প্রমুখ।
উল্লেখ্য,বিগত জুলাই বিপ্লবের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন পুলিশের গুলিতে অন্যদের সাথে গুরুতর আহত হয়ে পরে মারা যান উপজেলার ইসলামাবাদ ইউপির গজালিয়ার বাসিন্দআ শফিউল্লাহর ছেলে নুরুল মোস্তফা। রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে বিপ্লব পরবর্তী এক বছরেও শহীদের স্বীকৃতির মর্যাদা পাননি নুরুল মোস্তফা।যার কারণে হতদরিদ্র এ পরিবার সরকারি সব ধরনের সুযোগ সুবিধা এবং মর্যাদা বঞ্চিত রয়েই গেছেন।
