parbattanews

ঈদের টানা ছুটিতেও বান্দরবানে পর্যটক কম

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি বান্দরবান। ঈদের ছুটিতে পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মুগ্ধে বরাবরই পর্যটকদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় জেলাটি। ঈদ কিংবা দীর্ঘ সরকারি ছুটি এলেই পাহাড়ঘেরা এই জেলায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যেত। হোটেল-মোটেল থেকে শুরু করে পর্যটনকেন্দ্রগুলো থাকত মুখর ও প্রাণবন্ত। তবে এবারের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। ঈদের টানা ছুটিতেও বান্দরবানে পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে।

ঈদের টানা ছুটিতে দূর দুরান্ত থেকে আশানুরূপ পর্যটক না আসলেও স্থানীয় দর্শনার্থীসহ পর্যটকদের ভিড়ে মুখর বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। মেঘলা, নীলাচল, চিম্বুক, শৈলপ্রপাত, ডাবল হেন্ডভিউ, নীলগিরিসহ প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে স্থানীয় ও কিছু পর্যটকদের দেখা গেছে।

চিম্বুক থানচি সড়কের পাশে হাজার ফুট উপরে নীলগিরি। প্রতি ঈদের টানা ছুটিতে সকাল থেকে এই স্পটে উপচে পড়া ভীড় লেগে থাকত মেঘের খেলা দেখতে। কিন্তু সেখানেও পর্যটকদের চেয়ে স্থানীয় দর্শনার্থীদের বেশী। বান্দরবানে হাতেগোনা শতাধিক পর্যটকের আগমণ ঘটেছে। তারা বেশীরভাগই রোয়াংছড়ি দেবতাখুম ও থানচি রেমাক্রী, তিন্দু এবং রাজা পাথর দিকে ছুটছেন। সেসব স্থানে বাইকার কিছু কিছু পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন।

স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদের ছুটিতে হোটেল বুকিং কম হয়েছে। টানা তিনদিন ছুটিতে মাত্র ৬০ শতাংশ হোটেল মোটেল বুকিং হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। একই কথা বলছে জীপ ও মাইক্রোবাস সমিতিরাও। পর্যটক আগমন না ঘটায় ষ্টেশন থেকে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মাত্র দেড়শত থেকে দুইশত চাদের গাড়ি ছেড়ে গেছে। অনান্য ঈদের ছুটিতে হোটেল মোটেল শতভাগ বুকিং আর ষ্টেশন থেকে ৪০০শত অধিক গাড়ি ছেড়ে পর্যটন কেন্দ্রতে ছুটে যেত ।

বান্দরবানের পর্যটনশিল্প মূলত মৌসুমি পর্যটকের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ঈদের মতো দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটক কমে যাওয়া স্থানীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। কারণ পর্যটন খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। তবে এবার আশানুরূপ পর্যটক না আসলেও আগামীকাল থেকে পর্যটকদের মূখর হবে বলে আশা করছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

সকাল থেকে বান্দরবান থেকে চিম্বুক- থানচি সড়কে  খোলা আকাশের নিচে চাঁদের গাড়ীতে করে পর্যটন স্পটে ছুটে যাচ্ছেন। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়ক পেরিয়ে এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে ছুটে চলার সময় প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করছেন তারা। এযেন বাড়তি আনন্দ এনে দিয়েছে পর্যটকদের মাঝে। মেঘে ঢাকা পাহাড়, সবুজ বনাঞ্চল আর শীতল বাতাসে মুগ্ধ হয়ে পড়েছেন ভ্রমণপ্রেমীরা। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পরিবার পরিজন, বন্ধু বান্ধব নিয়ে সকাল থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগের মাধ্যমে ঈদের ছুটি ব্যস্ততা সময় পার করছে দর্শনার্থীরা।

ঢাকা বেড়াতে আসা সামিয়া, অঙ্কিতা, ফেরদৌস তারা জানিয়েছে, মানুষের মুখে শুনেছেন বান্দরবান অনেক সুন্দর। মেঘ আর পাহাড় মিতালীতে এক অপূর্ব সুন্দর জেলাটি। সকাল থেকে চাদের গাড়ি ভাড়া করে পাহাড়ি সড়ক বেয়ে নীলগিরি দিকে ছুটে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে তাদের কাছে ভালো লেগেছে বলে জানান।

হোটেল মোটেল এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছে, এবার ঈদের মাত্র ৬০-৭০ শতাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়েছে। তেমন পর্যটক আসেনি বলে জানিয়েছেন। তবে আগামীকাল ও পরশু দুদিন ছুটিতে পর্যটকদের আগমণ ঘটবে বলে আশা করছেন তিনি।

জীপ ও মাইক্রোবাস সমিতি টিকিট কাউন্টারে লাইনম্যান কামাল বলেন, সকাল থেকে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে স্টেশন থেকে দুইশত মতন চাদের গাড়ি ছেড়ে গেছে। আগের ঈদের ছুটিতে প্রায় সাড়ে চারশত গাড়ি ছেড়ে যেতে। টানা ছুটিতে এবার বান্দরবানে পর্যটক কম এসেছে। আরো দুদিন বাকী আছে আশা করছি পর্যটকদের মুখরিত হবে।

জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশ ইনচার্জ মো: মহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সাদা পোশাক,গোয়েন্দা ও ডিএসবিসহ প্রতিটি পর্যটন স্পটে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোন অপ্রতিকর ঘটনা ঘটলে হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে মুহুর্তে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

Exit mobile version