টানা ঈদের ছুটিতে কোথায় যাবেন ভেবেছেন? প্রকৃতির সবুজ অরণ্য ও পাহাড়-হ্রদের নৈস্বর্গিক মিতালি এমন জায়গা খুঁজছেন? তাহলে চলে আসুন পাহাড়ি জেলা ‘রাঙামাটি’। সবুজ পাহাড় আর কাপ্তাই হ্রদ মিলেমিশে একাকার করেছে বৈচিত্র্যের রাঙামাটিকে। বহু জাতিসত্তার বসবাস এ অঞ্চলে। এমন চিত্র অন্য কোথাও দেখা যায় না। যদি এমন নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য অবলোকন করতে চান, তাহলে ঘুরতে আসতে পারেন রাঙামাটি।

রাঙামাটিতে পর্যটকদের জন্য দেখার যা আছে:
ঝুলন্ত সেতু: বিনোদনের জন্য পর্যটন কর্পোরেশন ১৯৮৫ সালে রাঙামাটি শহরে নির্মাণ করেছে ঝুলন্ত সেতু। এ সেতুটিকে ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ বলা হয়। সেতুটির জন্য দেশ এবং দেশের বাইরে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে রাঙামাটি। সেতুর আশেপাশেই রয়েছে মোটেল ও কটেজ। তাই ঘুরতে আসলে থাকার জন্য কোনো ভয় নেই। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দমতো রুম বুকিং নিতে পারেন।
আসামবস্তী-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক:
রাঙামাটির আসামবস্তী থেকে কাপ্তাই অভিমুখী বিকল্প ১৮ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা সংযোগ সড়কটি এখন স্বর্গীয় সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। এ সড়কে যে কেউ একবার ঘুরতে এলে সহজে ফিরে যেতে ইচ্ছে করবে না। একদিকে মেঘের লুকোচুরি খেলা, অন্যদিকে পাহাড়-হ্রদের মিতালি আর সবুজ অরণ্যের সমন্বয়ে প্রকৃতি এখানে একাকার হয়ে গেছে। যেন বিধাতার এক অপরূপ প্রাকৃতিক লীলাখেলা। এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে কখন বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যার প্রদীপ জ্বলে ওঠে, তার ঠিক থাকে না।
বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় গুরু শ্রীমৎ সাধানানন্দ মহাস্থবীর বনভান্তের জন্মস্থান সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে জেলা সদরের বড়াদাম এলাকার মোরঘোনায় কাপ্তাই হ্রদে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে মূল সড়কের ওপর নির্মিত হয়েছে বনভান্তের স্মৃতিমন্দির। এটি বর্তমানে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এখানে হাজারো ভক্তের ভিড় থাকে। ফলে আশপাশে গড়ে উঠেছে চা-স্টল ও ছোট ছোট হাটবাজার। পাহাড়ি নারীরা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পাহাড়ি তরকারি নিয়ে এসব বাজারে হাজির হন। হ্রদে দেখা যায় পাহাড়ি নারীদের মাছ ধরা ও মাছ শিকার।
এই সড়কের বড়াদাম এলাকায় দাঁড়ালে এক নজরেই দেখা যায় পুরো রাঙামাটি শহর। দূর থেকে শহরটিকে মনে হয় যেন অথই সাগরের মাঝে একটি দ্বীপ।
সারাদিন ঘোরাঘুরি শেষে ভুঁড়িভোজ সারতে পারেন এই সড়কের পাশে প্রকৃতির ছায়ায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয়। এর মধ্যে ‘বার্গি লেক’, ‘বড় গাঙ’ ও ‘বেড়ান্নে রেস্টুরেন্ট’ উল্লেখযোগ্য।
বনভান্তের বৌদ্ধ মন্দির: শহরের রাজবাড়ি এলাকায় দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান বনভান্তের বৌদ্ধ মন্দিরটিও ঘুরে দেখতে পারেন পর্যটকরা। বিশাল আকৃতির মূর্তি, প্রাকৃতিক পরিবেশ আপনাকে আলাদা শান্তি প্রদান করবে।
কাপ্তাই হ্রদ পরিভ্রমণ : রাঙামাটি আসবেন আর কাপ্তাই হ্রদ পরিভ্রমণ করবেন না—তাই কি হয়! হ্রদের স্বচ্ছ নীলাভ জলরাশির খেলা, জেলেদের মাছ ধরা, সুউচ্চ পাহাড় ছুঁয়ে পাহাড়ি ঝর্ণার জল গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসবাসভিত্তিক ট্রাইবাল ভিলেজ—সব দেখতে পারবেন কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণ করলে।
যেভাবে রাঙামাটি যাবেন: ঢাকার কমলাপুর, ফকিরাপুল, টিটিপাড়া, কলাবাগান এলাকার বাস কাউন্টারগুলোতে গেলে ঢাকা-রাঙামাটিগামী বাস পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে নিজেদের পছন্দের বাসে নির্ধারিত ভাড়া মিটিয়ে চলে আসতে পারবেন বৈচিত্র্যের শহর রাঙামাটিতে।
থাকা-খাওয়া: রাত্রিযাপনের জন্য রাঙামাটি শহরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হোটেল-মোটেল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—মোটেল জর্জ, পর্যটন মোটেল, হোটেল নিডস, প্রিন্স হোটেলসহ আরও অনেক। হোটেলে আগে থেকে বুকিং করে রাখলে ভালো। বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগের ঠিকানা হোটেলগুলোর ওয়েবসাইটেই পাবেন। খাওয়ার জন্য এসব আবাসিক হোটেলের সঙ্গে এবং আশেপাশে রয়েছে উন্নতমানের খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁ।
