কল পেলেই ত্রাণ নিয়ে ছুটে যান উখিয়ার ইউএনও নিকারুজ্জামান

fec-image

সারাদেশে করোনাভাইরাসে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ, অভাব-অনটন। এর থেকে উখিয়া বাসীকে রক্ষা করতে সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী। কল পেলেই গ্রামগঞ্জে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যান এই কর্মকর্তা।

শনিবার(৪ এপ্রিল) সকাল থেকে রবিবার ভোর সকাল পর্যন্ত মোবাইল ফোনের কললিস্টের সুত্র ধরে ২২০ অসহায়, হতদরিদ্র,কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিয়েছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইউএনও নিকারুজ্জামান তার নিজস্ব গাড়িতে করে বাড়ি বাড়ি নিয়ে ত্রাণ বিতরণ পৌছে দিচ্ছেন। দিনের বেলায় যতক্ষণ অফিস থাকেন ওই সময় কখনো করোনা সংক্রান্ত সচেতনতামূলক মিটিং, কখনো অফিসে আগত অসহায় মানুষদের ত্রাণ বিতরণ, আবার কখনো কখনো রাস্তায় টহলে ব্যস্ত থাকতেন এই কর্মঠ ইউএনও।

ইউএনও তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে স্টাটাস দিয়ে উখিয়া বাসিকে বলেন,
‘আপনার সম্মানের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। বর্তমান করোনাভাইরাস প্রতিরোধ পরিস্থিতিতে আপনি কর্মহীন হয়ে পরেছেন, আপনার বাসায় খাবার সংকট থাকলে এবং সবার সামনে আপনি খাদ্য সহায়তা নিতে বিব্রত বোধ করলে অনুগ্রহ করে ০১৭৩৩৩৭৩২০৫ ফোন নম্বরে যোগাযোগ করুন।

পরিচয় গোপন রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা আপনার বাসায় পৌঁছে দিবো’। এরপর থেকে রাত-দিন ছুটে যাচ্ছেন অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে।

গত ২ দিনে (শনিবার-রবিবার) উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের খেওয়াছড়ি, আদর্শগ্রাম, ভালুকিয়া, পাতাবাড়ী, রত্না পালং, রাজাপালংসহ বিভিন্ন স্থানে ২২০ অসহায়,কর্মহীন পরিবারের মাঝে নিজে ত্রাণ পৌঁছে দেন।

এভাবে গত ৪ দিনে ৪২০ পরিবারের মাঝে তিনি নিজেই ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়ে অসহায় পরিবারে মাঝে হাঁসি ফুটিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় উপজেলার ৫হাজারের অধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন নিকারুজ্জামান।

রাজাপালং ইউনিয়নের হিজলিয়া গ্রামের মৃত লিটন বড়ুয়ার স্ত্রী বিধবা জুবলী বড়ুয়া ও মৃত সুদর্শন বড়ুয়ার স্ত্রী বিধবা বীথিকা বড়ুয়া বলেন, অনেক ভয়ে ভয়ে ইউএনও স্যারকে ফোন করি। ফোন করার ৩০ মিনিটের মধ্যে ত্রাণ নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন ইউএনও নিকারুজ্জামান। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন মানবিকতা দেখে আমাদের চোঁখে জ্বল এসে যায়।

রাজাপালং ইউনিয়নের বটতলী খালকাচা পাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম একই গ্রামের ইয়াকুব আলীর স্ত্রী সাজেদা বেগম বলেন, লোকজনের নিকট থেকে শুনে ইউএনওকে ফোন দিলে তিনি দ্রুত আমাদের মাঝে ত্রাণ নিয়ে ছুটে আসেন। ত্রাণ পেয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইউএনও নিকারুজ্জামানের জন্য বিশেষ দোয়া করেন।

কল পেয়ে রবিবার ভোরে রত্না পালংয়ে দুলাল বড়ুয়া নামের এক বয়োবৃদ্ধের বাড়িতে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যান ইউএনও। দুলাল বড়ুয়া ইউএনওকে দেখে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

এসময় সে বলেন, আজকে যদি ত্রাণ সহায়তা না পাওয়া যেত তাহলে অনাহারে থাকতে হতো। ত্রাণ পেয়ে সে খুশিতে আত্মহারা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের নির্দেশনা মতে যথাসাধ্য সার্বক্ষণিক মানুষের পাশে রয়েছি।

তিনি বলেন, অসহায় মানুষের ফোন পেলে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনা বলে এসব অসহায়, কর্মহীন মানুষের দ্বারে দ্বারে খাবার নিয়ে ছুটে যায়।

তিনি আরো বলেন, এই কঠিন পরিস্থিতি অন্যজনের দিকে না থাকিয়ে মানবিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা দরকার। এতে করে দেশে আর কেউ না খেয়ে অনাহারে থাকবেনা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইউএনও, করোনাভাইরাস, ত্রাণ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 1 =

আরও পড়ুন