উখিয়ার বালুখালিতে আইনশৃঙ্খলা, মাদক, জঙ্গীবাদ ও সামাজিক সহিংসতা বন্ধে বিট পুলিশিং সভা 

fec-image

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালিতে আইনশৃঙ্খলা, মাদক, বাল্যবিবাহ, যানজট নিরসন, জঙ্গীবাদ, পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতা বন্ধে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় বালুখালী কাশেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ।

তিনি বলেন, আমরা এখানে নতুন এসেছি, তাইনআইনশৃঙ্খলা, মাদক, বাল্যবিবাহ, যানজট নিরসন, জঙ্গীবাদ, পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতা প্রতিরোধের ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করবেন।

এডভোকেট জমির উদ্দিন বলেন, বালুখালী ১ ও ২নং ওয়ার্ডের লোকজন মাগরিবের পর থেকে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারেনা, কিন্তু কেন? এর জন্য আমরা দায়ী।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আহমদ বলেন, যারা অল্প সময়ের মধ্যে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছে তাদের ব্যাপারে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি৷

পালংখালী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এডভোকেট আবদুল মালেক বলেন, যারা ইয়াবা ও মাদক কারবারে জড়িত তারা প্রত্যেকে কারো না কারো আত্মীয়স্বজন। তাই তাদের ভুল পথ থেকে সঠিক পথে নিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আশাকরি এখন থেকে আমরা এই অপকর্ম থেকে সরিয়ে আসতে চেষ্টা করবো।

পালংখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজল কাদের ভুট্টো বলেন, বালুখালী কাস্টমস এলাকায় একটি ক্লাব রয়েছে, তাদের কাছে ২টি অস্ত্র আছে। এর নেপথ্যে ঘুমধুম এবং বালুখালীর ২জন ইউপি সদস্য৷ ওই ক্লাবের ৩০ জন সদস্য রয়েছে। তাদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিলে প্রকৃত ইয়াবা কারবারিরা কারা বেরিয়ে আসবে।

এম এ মঞ্জুর বলেন, যারা এখানে বক্তব্য রাখছেন তাদের প্রত্যেকের ব্যাপারে তদন্ত করে দেখেন কারা ভাল আর খারাপ, তারপর তাদের কথা মতো ব্যবস্থা নিন৷ গত কয়েক বছর পূর্বেও যাদের কিছু ছিল না, তারা আজ কোটি কোটি টাকার কিভাবে মালিক হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন।

এর আগে সভাপতির স্বাগত বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নির্বাচন আসলে যারা মাঠে ময়দানে কোটি কোটি ব্যয় করে তারা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন৷ তখন আমরা তাদের এসব দেখিনা, টাকার কাছে অন্ধ হয়ে যায়। প্রকৃত মানব সেবকেরা তাদের টাকার কাছে ধরাশায়ী হয়ে পড়ে। আমি অনুরোধ করবো ভবিষ্যতে এই ভুল গুলো করবেন না। কারণ পালংখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ মেম্বার ইয়াবায় অভিযুক্ত। এর কারণে সাধারণ মানুষ আজ নানানভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছে।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ওসি (তদন্ত) গাজী সালাউদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জুয়েল, আবু বক্কর, আবু তাহের, আকবর আহমদ, প্রফেসর ছৈয়দ নুর, রশিদ আহমদ, নুরুল হক, আবদুর রহিম রাজা, আনোয়ার হোসেন জাবুসহ পালংখালী ইউনিয়নের ১ও ২নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনসাধারণ।

সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আজাদ।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − fifteen =

আরও পড়ুন