উখিয়ায় সহকারি ক্যাম্প ইনচার্জ রবিউল কর্তৃক স্থানীয়দের হয়রানির অভিযোগ

fec-image

কক্সবাজারের উখিয়ায় সহকারি ক্যাম্প ইনচার্জ কর্তৃক স্থানীয় বাসিন্দাদের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের বসত ভিটায় রোহিঙ্গা বসতি স্থাপনের প্রতিবাদে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে শফিউল্লাহকাটা ক্যাম্প-১৬ এর সহকারি সিআইসি রবিউল ইসলাম। তাঁর এহেন অনিয়ম ও হয়রানির প্রতিকার চেয়ে পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহকাটা ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ জাফর আলম জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে প্রকাশ, উখিয়া উপজেলার শফিউল্লাহ কাটা শরণার্থী ক্যাম্প-১৬ এর সহকারী ক্যাম্প ইনচার্জ রবিউল ইসলাম নিয়োগের পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছে। কেউ তাঁর অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিচ্ছে। যার ফলে সহজে কেউ তার অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

সূত্রে জানা গেছে, ৯ জুলাই স্থানীয় বাসিন্দা জাফর আলমের বসত ভিটায় নির্মিত ৪টি রোহিঙ্গা ঝুপড়ি অন্যত্রে সরানোর জন্য জানানো হলে তৎকালীন সিআইসি কাজী ফারুক আহমদ নির্দেশ দিয়ে বদলী হয়ে যান। তৎপ্রেক্ষিতে ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা বসতি গুলো অন্যত্রে সরানোর চেষ্টা করলে জাফর আলমের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে রোহিঙ্গারা এবং সহকারি সিআইসি রবিউল ইসলামের নির্দেশে পুলিশ বাহিনী দিয়ে আটক করে জাফরসহ অপর দুইজনকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এরপর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা এবং রোহিঙ্গাদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে একাধিক সূত্র জানায়।

অভিযোগে আরো প্রকাশ, স্থানীয় বাসিন্দা জাফর আলম জেলে হাজতে থাকাকালীন রোহিঙ্গা ঝুপড়ি গুলো অন্যত্রে সরিয়ে নিলেও পরে আবারো হয়রানি করার মানসে রোহিঙ্গা বসতি স্থাপন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সহকারি সিআইসি রবিউল। এ নিয়ে যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয়রা।
মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার ভেটেনারী বিষয়ে বিএসসি করা স্থানীয় যুবক সাইফুল ইসলাম বলেন, সহকারি সিআইসিথর এ ধরণের হয়রানি অব্যাহত থাকলে আমরা পুরো গ্রামবাসী নিজ বসত বাড়ি ছেড়ে অন্যত্রে অথবা রাস্তায় অবস্থান করতে বাধ্য হব।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারি ক্যাম্প ইনচার্জ রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও গণমাধ্যমের সাথে তাঁর কথা বলার অনুমতি নেই বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামসুদৌজাথর সাথে মুঠোফোনে
যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের হয়রানির বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পায়নি।
অভিযোগ পেলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, শরণার্থী ক্যাম্প, সহকারি ক্যাম্প ইনচার্জ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − two =

আরও পড়ুন