আধিপত্য বিস্তারের জেরে বারবার সংঘর্ষ

উত্তপ্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প, ৩ দিনে ৫ জন নিহত

fec-image

ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে কক্সবাজার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক ধারাবাহিকভাবে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। গত সোমবার (১০ জুন) থেকে বুধবার (১২ জুন) পর্যন্ত ৩ দিনে ৫ জন রোহিঙ্গা বিভিন্নভাবে নিহত হয়েছে।

বুধবার (১২ জুন) ভোর ৬টায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এপিবিএন পুলিশ ও আরসার দুই গ্রুপের মধ্যকার গোলাগুলিতে আরসা সদস্য সন্ত্রাসী আব্দুল মোনাফ (২৬) নিহত হয়। উখিয়ার ঘোনারপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৯-এর এ-৪ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। সে ওই ক্যাম্পের আজিম উল্লাহর ছেলে।

৮ এপিবিএন-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মো. আমির জাফর বলেন, একাধিক হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামি আব্দুল মোনাফের বাহিনীর সঙ্গে অন্যান্য আরসা সদস‍্যদের মধ‍্যে গোলাগুলি হয়। খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তখন পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়তে থাকে। সেখানে ত্রিমুখী সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। পুলিশ নিজের জান ও সরকারি মালামাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থলে গেলে আব্দুল মোনাফকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে তাকে হাসাপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১১ জুন) বেলা আড়াইটার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৪ ব্লকের বাসিন্দা নাজির আহমেদের ছেলে সৈয়দ আমিনকে (৩৫) পিঠিয়ে হত্যা করে একদল সাধারণ রোহিঙ্গা। জানা যায়, সৈয়দুল আমিন সন্ত্রাসী সংগঠন আরএসও-র সদস্য। সাধারণ রোহিঙ্গারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধরের পর আশপাশের কিছু লোক উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগের দিন সোমবার (১০ জুন) ১ দিনে ৩ জন নিহত হয়। এ সময় আহত হয় আরও ৩ জন। ওই দিন ভোররাতে ৪ নম্বর (এক্সটেনশন) রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ ব্লকে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতেরা হলো, ওই ক্যাম্পের এফ ব্লকের জাফর আহম্মদের ছেলে মো. ইলিয়াছ (৩১), মৃত আব্দুর রকিমের ছেলে মো. ইছহাক (৫৪) ও ক্যাম্প-৩-এর ই ব্লকের মো. ইসমাইলের ছেলে ফিরোজ খাঁন (১৮)।

সূত্রে জানিয়েছে, ভোররাত পৌনে চারটার দিকে রোহিঙ্গা মো. ইলিয়াছকে সন্ত্রাসী সংগঠন আরএসও সদস্যরা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে, পায়ে, তলপেটে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে সে ঘটনাস্থলে মারা যায়।

এর পরে, ভোর সোয়া চারটার দিকে আরেক সন্ত্রাসী সংগঠন আরসা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আরএসও সমর্থক মো. ইছহাক, ফিরোজ খাঁন, আব্দুল হক, আব্দুস শুক্কুর ও আব্দুল মোনাফকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা গেছে, শুরুতে খুন হওয়া রোহিঙ্গা ইলিয়াছ আরসার সোর্স হিসেবে কাজ করত। আরসা সম্পর্কে জানতে চাওয়া তথ্য দিতে রাজি না হওয়ায় আরএসও সদস্যরা প্রথমে তাকে হত্যা করে। পরে ঘটনার খবর পেয়ে বদলাস্বরূপ আরসা সদস্যরা এসে কয়েকজন আরএসও সমর্থকের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।

ঘটনার পরে আহত রোহিঙ্গাদের চিকিৎসার জন্য উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. ইছহাক ও ফিরোজ খাঁনকে মৃত ঘোষণা করেন।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, প্রত্যেকটি ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা যায়নি।

তিনি বলেন, এত নিরাপত্তা জোরদারের পরেও কিছু কিছু ঘটনা ঘটছে। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পাশাপাশিথানা পুলিশও সমানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

১৪ এপিবিএন-এর অধিনায়ক মো. ইকবাল বলেন, সন্ত্রাসী দমনে আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি এই মুহূর্তে স্বাভাবিক।

৮ এপিবিএন-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মো. আমির জাফর বলেন, ঠিক কী কারণে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে পুলিশ তা নিশ্চিত নয়। ঘটনার মূল হোতাদের খোঁজা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন