চন্দ্রপাহাড়ে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ম্রো সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে পাহাড়ের সন্ত্রাসীরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত : ম্রো সম্প্রদায়

fec-image

‘পাহাড়ে হোক পর্যটন, ম্রোদের হোক উন্নয়ন’। ‘নিজেদের জীবিকা নিজে করি, প্রশ্ন কেন উচ্ছেদের’। ‘ম্রো-সেনাবাহিনীর সম্পর্কের অপপ্রচার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিরোধ করি’-এমন নানা শ্লোগানে বান্দরবানে মানববন্ধন করেছে ম্রো  সম্প্রদায়।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বান্দরবান মুক্তমঞ্চের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। থানচি সড়কের জীবননগর চন্দ্রপাহাড়ে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে ম্রো সম্প্রদায়ের নেতারা বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অক্লান্ত পরিশ্রমে বান্দরবান পার্বত্য জেলা যখন অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নের দ্বার প্রান্তে উপনীত তখনই কিছু স্বার্থান্বেষী কুচক্রীমহল এই উন্নয়নের ধারাকে নষ্ট করার জন্য হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে আর এন্ড আর হোল্ডিং গ্রুপ এর মাধ্যমে বান্দরবানের জীবননগর চন্দ্রপাহাড়ে আধুনিক মানের পর্যটন কেন্দ্র নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ওই বিষয়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা ম্রো সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি করার জন্য নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ম্রো সম্প্রদায়ের কোন সদস্য এই মিথ্যা অপপ্রচারের সাথে জড়িত নয় বলে ম্রো সম্প্রদায় আরও বলেন, স্বাধীনতার পর পার্বত্য এলাকায় সমস্ত ম্রো সম্প্রদায় সেনাবাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই অঞ্চলে শান্তির জন্য অনন্য ভূমিকা পালন করছে। ফলে সেনাবাহিনীর সাথে ম্রো’দের ভাল সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ম্রো সম্প্রদায়ের আর্তসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। সেনাবাহিনী ম্রো ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার সুবিধার্থে স্কুল ও হোস্টেল তৈরি করেছে, লেখা পড়ার জন্য শিক্ষা উপকরণ প্রদান করছে। উচ্চ শিক্ষার জন্য ম্রো যুবক-যুবতীদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজে ভর্তিসহ আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। অসহায়, দুস্থ ম্রো জনগনের জন্য ঘর-বাড়ি তৈরি করছে।

ম্রো সম্প্রদায় নেতারা জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রচুর পরিমাণে ম্রো সদস্যকে আনসারবাহিনীতে চাকুরী প্রদান করা হয়েছে। ম্রো ছেলে-মেয়েদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী প্রদান করছে। ম্রো যুবকদেরকে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে চাকুরী ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অসহায় গরীব ম্রো সদস্যদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সেনাবাহিনী কর্তৃক গবাদি পশু, আর্থিক সহায়তা, কৃষি কাজে উপকরণ হিসেবে বীজ, সার ইত্যাদি প্রদান করছে। অসহায় গরীব ম্রো ও অন্যান্য সম্প্রদায়কে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সেনাবাহিনী বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ প্রদান করছে।

ম্রো সম্প্রদায় ওই বিষয়টিকে বাংলাদেশের জনগনের সামনে আরও পরিষ্কার করতে গিয়ে বলেন, বান্দরবান পাবর্ত্য এলাকায় সেনাবাহিনী ও সর্বস্তরের মানুষ যখন মিলেমিশে কাজ করে ঠিক তখন কিছু অসৎ স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে বান্দরবানে এই উন্নয়নের ধারাকে বিঘ্ন করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা ম্রোদের জড়িয়ে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা, অপপ্রচার করে আসছে। স্বার্থন্বেষী মহল বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে চিম্বুক পাহাড়ে অবস্থিত জীবননগর চন্দ্রপাহাড়ে পর্যটন স্পটকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তারা বলেন, চন্দ্রপাহাড়ে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণ কাজে বাধাগ্রস্ত করতে পাহাড়ের সন্ত্রাসীরা চলমান উন্নয়ন ও সেনাবাহিনী নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়েছে। ওই এলাকায় উন্নয়ন হলে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা আস্তানা হারাবে দাবি করে সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

এসময় ম্রো সম্প্রদায়ের নেতারা আরও বলেন, আমরা গতকালকেই দেখলাম ৬২ জন বুদ্ধিজীবী এই ইস্যুটি নিয়ে বলেছেন যে, বিপুল সংখ্যক লোকজন নাকি ভূমিহীন হয়ে যাবে। আমরা তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, তাদের বান্দরবান সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই। এখানে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে। যার সাথে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীগণও সুর মিলাচ্ছে। আমরা সেই ৬২ জন শ্রদ্ধেয় বুদ্ধিজীবীকে বিনীত অনুরোধ করছি, তারা যেন এই এলাকার মানুষের বাস্তব চিত্র দেখার জন্য এলাকাটি এসে ঘুরে যান।

ম্রো নেতারা বলেন, পাহাড়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওই মহলটি বলে বেড়াচ্ছে ফাইভ স্টার হোটেল হলে ৮শ থেকে ১ হাজার একর জায়গা দখল করা হবে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে ওই এলাকায় বসবাস অযোগ্য ২০ একর তৃতীয় শ্রেণির জায়গা ২০১৫ সালে জেলা পরিষদ থেকে নেওয়া হয়। জীবননগর চন্দ্রপাহাড়ে পর্যটন হলে পরিবেশের উপর কোন বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই দাবি তাদের।

তারা বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক পর্যটন কেন্দ্র তৈরি সংক্রান্ত যে, কাল্পনিক তথ্য ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অনতিবিলম্বে এই অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত অনুরোধ করছি।

দীর্ঘ দুই ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে নীলগিরি, চিম্বুক পাহাড়, কলাইপাড়া, ধলাইপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের কয়েক শত ম্রো, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে অংশ নেন।

এসময় বক্তব্য রাখেন, বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মুজিবুর রহমান, ম্রো নেতা মাকং ম্রো, আলং ম্রো, মেনরাং ম্রো, সাংরাং ম্রো, জীবন ত্রিপুরা প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পর্যটন, বান্দরবান, ম্রো সম্প্রদায়
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − 5 =

আরও পড়ুন