parbattanews

ঋতুপর্ণা পুরো মহাদেশের নারী ফুটবলের জন্যই একটা বড় উদাহরণ : ভারতের কোচ

সদ্য সমাপ্ত সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের চেনা ছন্দের সবটুকু হয়তো দেখাতে পারেননি ঋতুপর্ণা চাকমা। তবে এই অঞ্চলের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বাংলাদেশের এই তারকা ফরোয়ার্ডের যে সুনাম, তাতে একটুও চিড় ধরেনি।

গত শনিবার ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ছয় বছর পর সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে ভারত। ম্যাচ শেষে ভারতের প্রধান কোচ ক্রিসপিন ছেত্রীর কণ্ঠে ঝরেছে বাংলাদেশের ২২ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের ভূয়সী প্রশংসা।

সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশের এমন কোনো খেলোয়াড় আছেন কি না, যাকে ভারতের ফুটবলাররা আদর্শ হিসেবে দেখতে পারেন? জবাবে ক্রিসপিন ছেত্রী আলাদাভাবে ঋতুর নাম উল্লেখ করে বলেন, তিনি কেবল দক্ষিণ এশিয়া নয়, পুরো মহাদেশের নারী ফুটবলের জন্যই একটা বড় উদাহরণ।

ভারতীয় কোচ বলেন, ‘আমরা সবাই ঋতুপর্ণাকে চিনি। তিনি শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই নন, পুরো এশিয়াতেই অসাধারণ এক ফুটবলার। আমার তো মনে হয়, তিনি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের এক পথিকৃৎ। শুধু বাংলাদেশ কেন, দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের মেয়েরাই তাকে আদর্শ মানে।’

পুরো টুর্নামেন্টে নিজের সেরা ফর্মের খোঁজে কিছুটা লড়াই করতে হলেও দলের প্রয়োজনে ঠিকই জ্বলে উঠেছিলেন ঋতু। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র গোলটি আসে এই বাঁ-হাতি উইঙ্গারের পা থেকেই। এর আগে সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে সরাসরি কর্নার থেকে চমৎকার এক ‘অলিম্পিক গোল’ করে দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন তিনি।

গত এক বছরে ঋতুর পারফরম্যান্সের গ্রাফ তরতরিয়ে ওপরে উঠেছে, যা তাকে এশিয়ান ফুটবলেই এক পরিচিত মুখ করে তুলেছে। এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মিয়ানমারের বিপক্ষে স্মরণীয় গোলসহ নিজের চেনা বাঁ-পায়ের জাদুতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক কোয়ালিফিকেশনে বড় অবদান ছিল তার। এশিয়ান কাপের মূল পর্বেও তার খেলা নজর কেড়েছিল সবার। ২০২২ ও ২০২৪ সালে বাংলাদেশের টানা দুবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনেও এই ফরোয়ার্ডের ভূমিকা ছিল দারুণ।

ঋতুর মাঠের পারফরম্যান্সের প্রশংসার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও তার দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ভারতের কোচ। ছেত্রী বলেন, ‘এখন তার কাজ হলো মাঠের এই পারফরম্যান্স শুধু খেলার ভেতরেই ধরে রাখা নয়, মাঠের বাইরেও তা বজায় রাখা। নারী ফুটবলটাই আসলে এমন। আমার বিশ্বাস তারা ভালো করবে।’

এদিকে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার জানিয়েছেন, ঋতু খুব শীঘ্রই মিয়ানমারে যাচ্ছেন। সেখানে একটি ক্লাবের হয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলবেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের ক্যারিয়ারকে আরেকটু উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই প্রতিভাবান উইঙ্গারের সামনে এটি বড় এক সুযোগ।

Exit mobile version