একজন যুব উদ্যোক্তা অংশেথোয়াই মার্মা’র সফলতা

fec-image

২০০১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে একমাসের প্রাতিষ্ঠানিক মৎস্য চাষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। সেই প্রশিক্ষণে রপ্ত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে গত ২০ বছরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আলীকদমের একজন তরুণ সফল উদ্যোক্তা। তিনি আলীকদম উপজেলার প্রয়াত নেতা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য থোয়াইচাহ্লা মার্মার জ্যোষ্ঠ সন্তান অংশেথোয়াই মার্মা।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পাহাড়ি জনপদ আলীকদম উপজেলার কৃতিসন্তান অংশেথোয়াই মার্মা ছাত্র অবস্থাতেই ছিলেন একজন যুব সংগঠক। উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০০১ সালে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক মৎস্য চাষ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। এরপর থেকে পুঁজি যোগাড়ে তৎপর হন।

অবশেষে ২০০৭ সালে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার নিজস্ব মূলধন নিয়ে পিতার জমিতে শুরু করেন পাহাড়ি জলাশয় সৃষ্টি করে মৎস্য চাষ। পাশাপাশি পাহাড়ের ঢালু জমিতে কৃষিজাত পন্য উৎপাদন, রাবার বাগান, মিশ্র ফলজ বাগান, গৃহপালিত পশু পালন শুরু করেন এ তরুণ।

মৎস্য প্রকল্পটি শুরুর পর তিনি তৎসময়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নেন। এছাড়াও কৃষি ব্যাংক থেকে ১ লাখ এবং আত্মীয়-পরিজন থেকে ঋণ নেন আরো ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। সর্বসাকুল্যে তার প্রাথমিক ৪ লাখ।

এ প্রকল্পটির মাধ্যমে শুরু হয় তার পথচলা। প্রকল্পে ৫ বছরে মূলধনসহ তার লভ্যাংশ দাঁড়ায় ৮ লাখে। ফলশ্রুতিতে ২০১২ সালে সরকার অনুমোদিত ঠিকাদার ও সরবরাহকারী হিসেবে তিনি লাইসেন্স সংগ্রহ করে ঠিকাদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

জানতে চাইলে অংশেথোয়াই মার্মা তার পূর্বাপর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ২০০১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণটি তার ব্যবসায়িক জীবনের উৎকর্ষতার পেছনে অনন্য অবদান রেখেছে। তিনি বলেন, পাহাড়ি উপজেলা আলীকদমের নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটক বাড়ছে। তাই আমি পর্যটকদের সুবিধা দিতে ২০১৯ সালে নির্মাণ করি ‘দ্যা দামতুয়া ইন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’।

তার আশা এ ধরণের আরো প্রতিষ্ঠান আলীকদমে গড়ে উঠলে এ জনপদের দ্রুত উন্নতিসাধন হবে। ২০২০ সালের শেষের দিকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আরো একটি প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা দাতুয়া ফুডস্’। এ প্রতিষ্ঠানের আওতায় আলীকদম বাজারে চালু আছে বনফুল এন্ড কোং এর একটি শাখা।

শুধু তাই নয়, এ তরুণ উদ্যোক্ত ব্যবসার পাশাপাশি পাহাড়ি এ জনপদে শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নেও রেখেছেন নানান অবদান। এরমধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য উপজেলা সদরে ২০০৮ সালে আলীকদম মৈত্রী হাইস্কুল প্রতিষ্ঠাকালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আলীকদম আইডিয়াল স্কুল (প্রস্তাবিত কলেজ) প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। বর্তমানে তিনি এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন।

অংশেথোয়াই মার্মা জানান, তার হাতে গড়া চারটি প্রতিষ্ঠানে ৪১ জন বেকার তরুণ-যুবক চাকরি করছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০ জন শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি করছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 4 =

আরও পড়ুন