বাঙালী বলেই শহীদুলের জন্য কেউ নেই

scan pic-01

আল-মামুন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :

 

পাহাড়ী-বাঙ্গালী সংঘর্ষের জের ধরে অপহৃত শহীদুলের খোঁজে মেলেনি এখনও।  তাই থামেনি পিতামাত ও স্বজনদের আহাজারী। উপজাতীয় দুস্কৃতিকারী কর্তৃক অপহৃত কিশোর শহীদুল ইসলাম (১৩) এর ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনও সবার অজানা। বাঙালী কী পাহাড়ী কী বোঝার বয়স হয়নি শহীদুলের। তবু নিষ্পাপ এ কিশোর ছেলেটি বাঙ্গালী হওয়ায় হয়েছে অপরাধ ? অপহরণের ২১ দিন পার হয়ে গেছে। এখনো অপহরণ রহস্যের কুল কিনারা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমনকি পুলিশ শহিদুলের বাবা মায়ের মামলা নিতেও  রাজি হয়নি ১৪ দিন। ১৪ দিন পর বিভিন্ন মহলের চাপে মামলা নিলেও উদ্ধার অভিযান চলছে দায়সারা গোছে। তবে কবে মিলবে তার সন্ধান- এ খাগড়াছড়ি- ভুয়াছড়ি এলাকার মানুষের মুখে মুখে।  তাই থামেনি অপহৃত ছেলেকে ফিরে পেতে অভাগিনী মায়ের কান্না।

নিখোঁজ শহীদুলের সন্ধান নিয়ে তার নাম ফরিদা বেগম অভিযোগ করেন, উপজাতীয় কোন ব্যক্তির কিছু ঘটতে না ঘটতেই প্রশাসন যে ভাবে তৎপর হয়ে উঠে শহীদের জন্য তেমন কারো মাথা ব্যথা নেই। তিনি আর্তনাদ করে বলেন, যার যায় সে বুঝে, হারানোর কি বেদনা। আজ যদি কোনো পাহাড়ীর এই ঘটনা ঘটতো তাহলে প্রশাসন যে তৎপরতা দেখাতো তার ছেলের বেলায় তেমনটা হচ্ছে না কেন প্রশ্ন তুলে শহিদুলের মা বলেন, বাঙালীর ঘরে জন্ম নেয়ায় কি তার ছেলের অভিশাপ? বাঙালী বলেই পুলিশ, প্রশাসন, এমনকি বাঙালী- কেউ নেই শহীদুলের পাশে!

এদিকে কোনো পাহাড়ীর এ ধরণের ঘটনা ঘটলে পাহাড়ী সংগঠনগুলো যেভাবে মিছিল মিটিংএ সোচ্চার হয়ে ওঠে তাতে সরকার ও প্রশাসন বাধ্য হয় তৎপর হতে। শহীদুলের বেলায় নূন্যতম প্রতিক্রিয়া দেখায়নি কোনো বাঙালী সংগঠন। এমনকি একটি দায়সারা গোছের বিবৃতিও কেউ দেয়নি। যে বাঙালী ছাত্র পরিষদের মিছিলকে ঘিরে সৃষ্ট দাঙ্গার বলি হয়ে নিষ্পাপ শিশু শহীদুল অপহৃত হলো সেই বাঙালী ছাত্র পরিষদও শহীদুলের উদ্ধার নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে। ফলে প্রশাসনকেও তৎপর করতে বাধ্য করা যায়নি।

নিজের এলাকা না হলেও রাঙামাটির এমপি উষাতন তালুকদার সবিতা ইস্যু নিয়ে সংসদে জোরালো বক্তব্য দিলেও শহীদুল নিয়ে টু শব্দ করেননি তিনি। যদিও নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, তিনি পাহাড়ী-বাঙালী সবার এমপি। আর যে এমপি’র এলাকা সেই কুজেন্দ্রলালও সংসদে বা সংসদের বাইরে শহীদুল ইস্যু নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিখোঁজ শহীদুলকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করা যাবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় প্রসাশন সবাইকে নিরব রেখেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ছেলেটিকে খুঁজে বের করে দেওয়া হবে বলেও দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু তিনিও প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। অপহরণকারীদের নাম শনাক্ত হলেও কেন তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না, কেন উদ্ধার সম্ভব হচ্ছে না এটাই এখন সবার প্রশ্ন।

এদিকে, অপহৃত শহীদুলের পিতা খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করতে বার বার ধরণা দিয়ে আসলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ শুরুতে মামলা নিতে চায়নি। অপহরণের ১৪ দিন পর মামলা গ্রহণ করলেও এখনও তার কোন সন্ধান বের করতে পারেনি পুলিশ। একপর্যায়ে স্থানীয় ও উচ্চ পর্যায়ে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সংঘটিত ঘটনায় একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সবিতা চাকমা ও পাহাড়ীদের স্বার্থ নিয়ে সবাইকে প্রবল উৎকণ্ঠিত দেখা গেলেও শহীদুলের উদ্ধার নিয়ে কথা হয় দায়সারা গোছে। 

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ৩৬৪/৩৪ ধারায় একটি মামলা হয়েছে। মামলা নং-০২/১৪,তারিখ-১১/০৩/১৪। মামলায় ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ-মিন্টু চাকমা, রুবেল চাকমা, বিজ্জুকা চাকমা, অনিক্যা রঞ্জন চাকমাকে আসামী করা হয়।

উল্লেখ যে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সংঘর্ষের জের ধরে শহীদুল ইসলাম গৃহপালিত ছাগল আনতে গেলে কমলছড়ি-ভুয়াছড়ির পাহাড়ী এলাকা থেকে উপজাতীয় দুস্কৃতিকারীরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × four =

আরও পড়ুন