এখনো শঙ্কামুক্ত নয় বান্দরবানের রুমা ইউপি চেয়ারম্যান, হয়নি মামলা

fec-image

বান্দরবানের রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লা মং মারমা এখনো আশঙ্কাজনক। তিনি সুস্থ হননি। বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ডান চোখ এবং শরীরে বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন তিনি।

গত শুক্রবার রাতে রুমা উপজেলা সদরের বাজার এলাকায় নিজ দলের অপর এক নেতা সাইলুকথান বম এর হামলার শিকার হন তিনি। এসময় চেয়ারম্যানকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছে আরও দুইজন। এই ঘটনার পর প্রতিদিন এলাকার অসংখ্য মানুষ চেয়ারম্যান উহ্লা মং মারমাকে দেখতে সদর হাসপাতালে ভিড় করছেন।

রবিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বান্দরবান সদর হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় রুমা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে। তারা তাদের প্রিয় চেয়ারম্যানকে দেখতে এসেছেন। এসময় তারা বর্বরোচিত এই হামলার জন্য দোষী ব্যাক্তির দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তিসহ বিচার দাবি করেন।

বান্দরবান সদর হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লা মং মারমা হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ১নং রুমের একটি সিটে অসহায়ভাবে শুয়ে আছেন। ডান চোখের নিচে নীলা ফোলা জখমের কারণে পুরো চোখ লাল হয়ে গেছে। পিট ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন। এসময় কথা হলে তিনি জানান, সদর হাসপাতালে শারির চিকিৎসার পাশাপাশি চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুরোপুরি সুস্থ্য না হওয়ায় ঘটনার বিষয়ে তিনি এখনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ হয়নি।

তিনি আরও জানান, সম্প্রীতির রুমায় গণতান্ত্রিকভাবে যেকেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। মানুষের উপর হামলা, অন্যের সমালোচনা ও প্রপাগন্ডা ছড়িয়ে এলাকাকে যারা উত্তপ্ত করেছেন দল এবং এলাকার জনগণ তাদের বিরুদ্ধে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন।

এদিকে হামলার পর তিনদিন অতিবাহিত হলেও কাউকে আটক কিংবা থানায় মামলা হয়নি। এবিষয়ে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, হামলার বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। তবে বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মিমাংস হওয়ার কথা ছিল। আর অভিযোগ না পেলে কারো বিরুদ্ধে কিভাবে ব্যবস্থা নেবো।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভয়েস রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা জানতে গিয়ে গত শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) রাতে চেয়ারম্যান উহ্লা মং মারমা হামলার শিকার হন। আর হামলার জন্য তিনি পাইন্দু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাইলুকথান বমকে দায়ী করে আসছেন। যদিওবা হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছেন সাইলুকথাম বম।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 + twelve =

আরও পড়ুন