এদেশে আমার সকল সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে : মির্জা ফখরুল

fec-image

জন্মদিনে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ আমার বয়স ৭৮। গত ১৭ বছর গেছে গণতন্ত্রের সংগ্রামে, ১১ বার জেল । কি পেয়েছি কি করতে পেরেছি তা আল্লাহ জানেন আর মাটিতে জনগণ । কিন্তু নীতির প্রশ্নে আপোষ করি নি। আল্লাহ জানেন । দলের নেতা কর্মী, সমর্থক ও সর্ব স্তরের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাকে আরও ঋণী করেছে। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আল্লাহর অনেক রহমত। আমি আছি আপনাদের সাথে। তিনি বলেন, আমি যখন রাজনীতি শুরু করি, আমার দুচোখে সমাজ বদলানোর স্বপ্ন। সে প্রায় ৬০ বছর আগের কথা । বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। মানুষের কাজ করে গেছি। ছাত্র পড়িয়েছি, সরকারী চাকরি করেছি । সরাসরি রাজনীতিতে আবার ফিরে আসি ৮৮ তে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নিজের ৭৮তম জন্মদিন উপলক্ষে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি সরকারের শাসনামলে ঠাকুরগাঁওয়ে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছে, তা আজও এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। কথার উন্নয়ন নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই তখন ঠাকুরগাঁও বদলেছে। কৃষি, শিক্ষা, অবকাঠামো ও মানবসম্পদ, সব খাতেই ছিল পরিকল্পিত অগ্রগতি।

বিএনপির শাসন আমলে কৃষিভিত্তিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে পোস্টে তিনি বলেন, ২০০৫ সালের মার্চ মাসে বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস ভূগর্ভস্থ সেচ প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ১,৩৩৭টি টিউবওয়েলকে আধুনিক ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নেটওয়ার্কে রূপান্তর করা হয়। এর ফলে পানির অপচয় কমে, কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ৫০ একর নতুন জমি কৃষির আওতায় আসে। এই প্রকল্পই ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ভিত শক্ত করে।

তিনি বলেন, আমি শুধু কৃষিতে নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের দিকেও নজর দিয়েছি। গোবিন্দনগরে ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভবনের শিলান্যাস উত্তরাঞ্চলে কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করি । এই প্রতিষ্ঠানগুলোই আজ হাজারো তরুণের কর্মসংস্থানের ভিত্তি।

১৯৯১–১৯৯৬ এবং ২০০১–২০০৬—এই দুই মেয়াদে ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামকে গ্রামের সঙ্গে, মানুষকে মানুষের সঙ্গে যুক্ত করেছে বিএনপি। নতুন গ্রামীণ সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়। গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের বিস্তারে কৃষি, ব্যবসা ও ঘরোয়া জীবনে গতি আসে। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজ ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষা পৌঁছে যায় প্রত্যন্ত এলাকায়।

বিএনপি সরকারের সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সব বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষক সমাজের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরে আসে। একই সময়ে ১,২৬০টি গভীর নলকূপ চালুর মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার বিপ্লব ঘটে, যা কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

এই উন্নয়নের পেছনে নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি ইএসডিও (ESDO)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলাম । পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে আমি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ সম্প্রসারণ এবং রপ্তানিমুখী কৃষিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেই । কৃষক সমবায় ও আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষমতায়ন ছিল আমার অন্যতম কাজ ।

তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রী চাকরী করেছে ও আমার মেয়েদের বড় করেছে। মেয়েরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে। বড় মেয়ে বৃত্তি নিয়ে দেশের বাইরে পড়েছে। ওরা নিজ নিজ কর্মস্থলে আছে। আজ আমি ওদের ধন্যবাদ দেই, আমাকে সাথ দেবার জন্য । আমি আজও এই দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখি ও কাজ করি । আজকের তরুণেরা আমার সন্তানসম।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: জন্মদিন, বিএনপি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন