এবারের ঈদে হাসি নেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখে!

fec-image

করোনাকালে সবকিছুতে বিপর্যয় ঘটায় কোনো প্লাটফর্মেই আসলে কোনো কাজের কাজ হচ্ছেনা। সবকিছুই যেন এলোমেলো করে দিয়েছে এই মহামারী।

এতে যেমন নিম্ন আয়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েছে ঠিক তেমনি উচ্চ আয়ের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরাও বিপাকে পড়েছে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কারণ বড় বড় ব্যবসায়ীরা নানা কৌশল অবলম্বন করে তাদের ক্ষতির পরিমাণ মুটামুটি পুষিয়ে নিতে পারলেও পারেনি ছোট্ট ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ঈদুল ফিতর যেতে না যেতেই ঘুরেফিরে ঈদুল আজহার আগমন হতে যাচ্ছে। কিন্তু চারদিকে যেন সুনশান-নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। খুব একটা আমেজ দেখা যাচ্ছে না, নেই আগের মতো উৎসবমুখর পরিবেশ। ঠিক যেমনটা গত ঈদুল ফিতরেও লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

এই বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস চলমান পৃথিবীর অধিকাংশ কাজই থেমে দিয়েছে বলতে গেলে। এদিকে করোনা কালীন ক্ষতির পরিমাণের ভার সইতে পারছেনা আমাদের দেশের বেশিরভাগ নিম্ন স্তরের মানুষ। যদিও পরে দেশে লকডাউন তুলে নেওয়ায় কাজের গতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের লকডাউন মানুষকে অর্থভাবে ফেলেছিলই।

এই ক্ষতির পরিমাণ কতটুকু কাটিয়ে উঠেছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীগুলো ও তাদের বর্তমান আয়ের অবস্থা কেমন এটা জানতে সরেজমিনে পালংখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা স্থানীয় মার্কেটগুলোতে  দেখা যায়।

সেখানে রবিউল নামের একজন ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী বলেন,”করোনারভাইরাসের কারণে লকডাউন অবস্থায় দোকানপাট বন্ধ ছিল কয়েকমাস। এই সময়টাতে ব্যবসা করতে পারিনি। অনেক ক্ষতি হয়েছে আর্থিকভাবে। এখনও যে খুব ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারছি তাও কিন্তু নয়।”

থাইংখালী ছিদ্দিক মার্কেটের কসমেটিকসের দোকানদার শাহাব উদ্দিন বলেন,”আগের মতো কাস্টমার নেই। বিক্রি খুব কম হচ্ছে আজকাল। বলতে গেলে মানুষ আসছেনা। আগে ঈদের মৌসুম আসলে ব্যস্ততায় দিন কাটাতাম। এমনকি অনেকসময় রাতেও ঘুমাতে পারিনি ঈদের ঝামেলায়। কিন্তু এখন দোকানে বসে বসে সময় পার করছি শুধু। যদিও ঈদ আসতে বেশি দিন নেই। তবুও কোনো ক্রেতার সন্ধান মিলছেনা মার্কেটে।”

আগের মতো রোহিঙ্গা কাস্টমার আসছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আরেক ব্যবসায়ী বলেন,”না, কারণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এখন শতশত দোকান। মার্কেট ওখানেই রয়েছে তাই তারা এখন স্থানীয় মার্কেটগুলোতে খুব কমই আসে।”

একদিকে যেমন মার্কেটগুলোতে ক্রেতার শূন্যতা, আর অন্যদিকে টেইলার্স দোকানীরাও বিপাকে। মার্কেটের পাশাপাশি স্থানীয় দর্জির দোকানগুলো সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঠিক একই অবস্থা এবং তাদেরও ঠিক একই গল্প।

থাইংখালী টেইলার্স কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান সুজন বলেন,”দর্জিদের এখন মাথায় হাত। কারণ স্বাভাবিক সময়ে কুরবানী ঈদে কাস্টমার এমনিতেই কম হতো রমজানের ঈদের তুলনায়। কারণ পরিবার থেকে কুরবানী দিলে খরচ বেড়ে যায়। আর এতে মানুষ কাপড় কম সেলাই করে। কিন্তু এবছর কাঙ্খিত কাস্টমার তো দূরের কথা, হাতেগোনা অল্প কয়েকজন কাস্টমার ছাড়া খুব একটা লোকজন কাপড় সেলাই করছেনা। এতে চরমভাবে আর্থিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে ক্ষুদ্র টেইলার্স দোকানীদের।

তিনি আরও বলেন,”বর্ষাকালে দর্জিরা খুব ভালো অবস্থায় থাকেনা। তখনও কাস্টমার কম থাকে। আবার লকডাউনের জন্য অনেক দিন বন্ধ ছিল দোকানপাট। সে সময়ও যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দর্জিরা। এখন করোনা কাল, বর্ষাকাল ও কুরবানীর ঈদ সব একসাথে হওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আমরাও কষ্টে পড়েছি।”

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − four =

আরও পড়ুন