পাহাড় থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী হুক্কা

hom hokka pic 2

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥

কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী হুক্কা। এক সময় সাধারণ মানুষের কাছে ধুমপানের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় ছিল এই হুক্কা। যার প্রচলন এখন দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। বিগত কয়েক বছর আগেও আবহমান বাংলার গ্রাম-গঞ্জে ধুমপায়ীরা হুক্কার মাধ্যামে তামাকপানের নেশায় অভ্যস্ত ছিল। সে সময় ধনী-গরীব প্রায় সকলের বাডিতেই হুক্কার প্রচলন ছিল।

প্রবীন বয়স্কদের সাথে কথা বলে জানাযায়, গ্রামের বিভিন্ন বৈঠক খানায় মেহমানদের জন্য প্রধান আকর্ষন ছিল হুক্কা। যে কোনো বয়সের ছেলে ও বয়স্করা হুক্কার নেশায় মাতোয়ারা ছিল। বর্তমান প্রজন্মে হুক্কা খাওয়াতো দুরের কথা অনেকে চোখেই দেখেনি। কারন এসময়ে হুক্কার জায়গা দখল করে নিয়েছে বিড়ি, সিগারেট, হুইস্কি, হেরোইন, গাজাঁসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য। যার মধ্যে ক্ষতিকর নিকটিন রয়েছে অধিক হারে। তার পরও এই মরন নেশায় জড়িয়ে পড়েছে উঠতি বয়সের যুব সমাজ। যাদের নিয়ে দেশের সকল অবিভাবক মহল থাকেন সব সময় উদ্বিগ্ন।

সরেজমিনে খাগড়াছড়ি জেলার হাটবাজার ঘুরে দেখাযায়, তামাকের পাতাকে টুকরা টুকরা করে কেটে চিতাগুড় মিশ্রিত করে তৈরী করা হচ্ছে হুক্কার প্রধান উপাদান তামুক। পাহাড়ী অঞ্চল ছাড়া এখন তা তেমন একটা চোখে পড়েনা।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গুইমারা বাজারে দেখাযায়, প্রতি মঙ্গলবার (হাটের দিন) শত শত উপজাতী নারী-পুরুষ হুক্কা টানছে এবং এর উপাদান তামুক কিনছে দেদারছে। প্রত্যন্ত পাহাড়ী পল্লিতে সিগারেট তেমন একটা পাওয়া যায়না তাই সাপ্তাহে একদিন হুক্কার উপাদান তামাকের গুড়া কিনে নিয়ে যায় আদিবাসীরা।

গুইমারা বাজারে বিটন বড়–য়ার দোকানে হুক্কা টানার (ধুমপান) সময় কথা হয় কালাচান ত্রিপুরার সাথে, তিনি জানান, হুক্কা টানতে যে মজা পাওয়া যায় সিগারেটে তা পাওয়া যায়না। এক সময় এই হুক্কা টানতো পাহাড়ি রাজারা বাদশারা। তাই হুক্কা টানলে নিজেকে মাঝে মাঝে রাজা মনে হয়। একারণে এখনও তিনি হুক্কা টানেন।

স্থানীয় বাজারের তামাক ব্যবসায়ী বিটন বড়ুয়া ও নূর মুহাম্মদ জানান, আগে প্রতি মঙ্গলবার (হাটের দিন) প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার তামাক বিক্রি হতো, এখন আগের মত তেমন একটা বেচা-বিক্রি হয় না। মানুষ হুক্কা ছেড়ে সিগারেট খাচ্ছে। তাই আমাদের ব্যাবসা ধ্বস নেমেছে।  

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen − thirteen =

আরও পড়ুন