মহেশখালীতে উত্ত্যক্তকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে হুমকির মুখে কলেজছাত্রী

fec-image

মহেশখালী সরকারী বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজছাত্রী শাওন মনি অভিযোগ তুলেছেন, টানা ৬ মাস ধরে কলেজ ও প্রাইভেটে যাওয়ার পথে উত্ত্যক্তকারী বখাটেদের বিরুদ্ধে মামলা করে তিনি ও তার পরিবার সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে পড়েছেন। মামলার আসামি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নানাভাবে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে চলেছে। তিনি দ্রুততর সময়ে বখাটে ওই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (১০ মে) কক্সবাজার শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই কলেজছাত্রী এমন অভিযোগ তুলেছেন। কলেজছাত্রী শাওন মনি দাবি করেন, কিছু উশৃঙ্খল বখাটে যুবক দীর্ঘ ৬ মাস ধরে তাকে কলেজ ও প্রাইভেটে যাওয়ার পথে উত্যক্ত করে আসছে।

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের (বখাটে) অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়ি। বিষয়টি আমি আমার আত্বীয়স্বজন, শিক্ষক, সমাজের জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে জানাই। সমাজের মুরব্বিরা বখাটেদের নিবৃত করার চেষ্টা করলে কিছুদিন তাদের অত্যাচার একটু কমে। কিন্তু গত দুয়েক মাস আগে থেকে বখাটেদের পূর্বের চরিত্র আবারও ফুটে উঠে।’

তার দাবি, গত ১৯ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে তার চাচার বাসা থেকে নিজের বাড়িতে যাওয়ার পথে মহেশখালী পৌরসভার চরপাড়া এলাকার আমান উল্লাহর ছেলে তারেক (২২), গোরকঘাটা সিকদার পাড়া এলাকার মাহবুব আলমের ছেলে মহিউদ্দিন (৩০), চরপাড়া এলাকার রৌশন আলীর ছেলে সানা উল্লাহসহ (৩২) অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জন সহযোগী বখাটে যুবক মিলে চলাচলের পথরোধ করে তাকে উত্যক্ত করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা তাকে অপহরণ করার চেষ্টা করে এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে বখাটেদের হাত থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌছে দেন।

ওই ঘটনায় ২৩ এপ্রিল মহেশখালী থানায় লিখিত এজাহার দেন মহেশখালী সরকারী বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শাওন মনি। মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হাই ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ওইদিনই লিখিত এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করেন।

কলেজ ছাত্রী শাওন মনি মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ফকিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা। প্রায় ৮ বছর আগে তিনি পিতৃহারা হন। তার মা আর্থিক অভাব অনটন দূর করার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বর্তমানে তিনি মায়ের নতুন সংসারে তাদের অত্যন্ত আদর-যত্নে প্রতিপালিত হচ্ছেন।

শাওন মনি বলেন, ‘ওদের (নতুন বাবার সংসারে) সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যে আমার লেখাপড়া চালিয়ে নিতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে আমি মহেশখালী সরকারী বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের নিয়মিত ছাত্রী।’

তার দাবি, উত্ত্যক্তকারী বখাটেদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর থেকে আসামি ও তাদের সহযোগীরা নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রভাবশালী লোকজন ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক দিয়ে তার পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। এই কারণে তার নিয়মিত পড়ালেখা, স্বাভাবিক জীবনযাপন ও চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

শাওন মনি’র মতে, মামলাটি রুজু হওয়ার পর থেকে একটি মহল মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ‘পিতৃতুল্য’ শিক্ষকদের জড়িয়ে অপপ্রচার করে আসছে। যে শিক্ষকদের নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে তাদের পারিবারিক, সামাজিক ও তাদের পেশাগতভাবে চরমভাবে মান ক্ষুন্ন হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, গত ১৯ এপ্রিল রাতের ঘটনার সাথে ওই শিক্ষকদের ন্যুনতম সম্পর্ক নেই। তিনি অনুরোধ করেন, যারা মামলার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে তাকে নিয়ে ভিন্ন ব্যক্তিদের সাথে উদ্দেশ্যমূলক অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ পোষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

শাওন মনি মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। তিনি সমাজ প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও মানবিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কলেজ ছাত্রী শাওন মনি’র সাথে উপস্থিত ছিলেন তার মা সামজিদা মনোয়ারা ও নতুন বাবা মো. রহমত উল্লাহ।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 − two =

আরও পড়ুন