কক্সবাজারে জমে উঠেছে ঈদ বাজার: নারীদের উপচে পড়া ভিড়

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আর মাত্র ১০/১১ দিন বাকি আছে। এরই মধ্যে জমে উঠেছে কক্সবাজারে ঈদ বাজার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মার্কেটের সবগুলোই ক্রেতায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে। বিক্রেতাদের যেন দম ফেলানোর ফুসরত নেই।

তবে গত বছরের মতো এবারে ব্যবসা ভালো হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ হিসেবে জানা গেছে, সাধারণ মানুষ চলমান ক্রসফায়ার আতংক নিয়ে আত্মগোপনে আছেন। সেই কারণে ধণাঢ্যরা কেউ মার্কেটে আসছেনা। অপরদিকে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্য না হওয়ায় বেচাবিক্রিতেও ধস নেমেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে মার্কেটে আসা ক্রেতাদের নিরাপত্তার স্বার্থে কক্সবাজারে ঈদ বাজারে সার্বক্ষণিক থানা পুলিশের সিভিল টিম, নারী পুলিশ টিম ও ইউনিফর্ম টিম টহল দিয়ে যাচ্ছে।

শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মাসের প্রথম থেকেই মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। এর আগে হালকা বৃষ্টির কারণে বিক্রিতে কিছুটা ভাটা পড়েছিলো। এখন সকাল থেকেই বিক্রিতে ধুম লেগে যায় বাজারের ছোট বড় সকল দোকানে। কক্সবাজার এর ঈদ বাজারে দু’ধাপে মার্কেটগুলোতে বেচা-বিক্রি হয়। দিনের প্রায় পুরো সময়টা দূরের ক্রেতারা বাজার দখল করে রাখে।

স্থানীয়রা এবং ব্যবসা বা চাকরী সুত্রে যারা এ জেলায় বাস করেন এ উচ্চবিত্ত ক্রেতারা মার্কেটে আসেন সন্ধ্যার পরে। যার কারণে দিনে ও রাতে সমানতালে বিক্রি হচ্ছে কক্সবাজার শহরের মার্কেটগুলোতে। এ ভীড় সাধারণত সালাম মার্কেট, ফিরোজা শফিং কমপ্লেক্স, রশিদ কমপ্লেক্স, ফজল মার্কেট, পৌরসভা মার্কেট, নিউ মার্কেট, কবির মার্কেট ও আপন টাওয়ারসহ হকার মার্কেট এর দোকানগুলোতে বেশি চোখে পড়ে।

এদিকে ক্রেতাদের কাছে টানার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ব্যবসায়ীরাও। ক্রেতাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন পোশাক ও অলংকারে সাজানো হয়েছে শহরের শপিংমলগুলো। বর্ণিল আলোক সজ্জায় বিপণি বিতানগুলোকে সাজানো হয়েছে নতুন করে। এবার গরমের মাত্রা বেশি থাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিং মলগুলোতে ভিড় একটু বেশি ক্রেতাদের। তবে সাধারণ মানের মার্কেটগুলোতেও মানুষের কমতি নেই। এসব মার্কেটে এখনই ক্রেতা উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত শপিংমল, সবখানে চলছে কেনাকাটা। দেশীয় জামদানি, টাঙ্গাইল ও তাঁতের নতুন ডিজাইনের শাড়িসহ নারীদের বিভিন্ন পোশাক বিক্রি হচ্ছে ধুমিয়ে। ফ্যাশনের পাশাপাশি ঐতিহ্যকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন নারীরা। আর প্রচুর কালেকশনের পাশাপাশি দাম এখনো কম থাকায় খুশি তারা।

ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, মেয়েদের ত্রি-পিস, শাড়ি, কটকটি, ছেলেদের পাঞ্জাবী, জিন্স প্যান্ট, শার্ট, সেন্ডেল, ক্রয় করতে দোকানগুলোতে এখন বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবার জুতোর দোকানগুলোতে ক্রেতায় পরিপূর্ণ হয়ে আসছে।

দেখা যায়, গত এক বছরের মধ্যে কক্সবাজার শহরের বাজারে নতুন করে বেশ ক’টি মার্কেট চালু হয়েছে। সেই মার্কেটগুলোতেও ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে শহরের পানবাজার রোডে অভিজাত পরীস্থান, মনে রেখ ও নিশানে ক্রেতাদের প্রচুর ভীড় দেখা গেছে।

অভিজাত মানের নক্ষত্র ফ্যাশনের ম্যানেজার ফায়সাল উদ্দিন খোকা জানান, আমাদের এখানে দেশী-বিদেশি হরেক রকম পোশাকের বিপুল সমারোহ রয়েছে। গত ক’দিনে বিক্রি অনেক বেড়েছে। ঈদের বাজার এখনো পুরোপুরি জমে উঠেনি। তবে বিক্রি ভালো হচ্ছে।

নিরাপত্তার সার্বিক বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে নিয়মিত। এ ব্যাপারে কক্সবাজার মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, ক্রেতা সাধারণ ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য স্পেশাল বাহিনী মাঠে কাজ করছে। মাঠে সার্বক্ষণিক সাদা পোষাকধারী পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 − one =

আরও পড়ুন