কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মহড়া, যাত্রীদের উদ্ধার


কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি দুই বছর অন্তর একবার মহড়া অনুষ্ঠানে হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ নানাবিধ ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই এবং অংশীজনদের প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
মহড়ায় দেখানো হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ৮ জন যাত্রী এবং দুই জন কেবিন ক্রু নিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে বিমানটি যাত্রা করে। বিমানটি উড্ডয়নের ১০ মিনিটের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি বেনামি টেলিফোন কল আসে, তাতে কলদাতা জানায়, বিমানের ভেতরে একটি বোমা রাখা হয়েছে এবং যেকোনও সময়ে এটি বিস্ফোরিত হতে পারে। কন্ট্রোল টাওয়ার দ্রুত বিষয়টি কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক এবং অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে জানায়। তিনি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং হুমকিটিকে বাস্তবসম্মত বিবেচনা করে বিমানবন্দর পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে ‘ফুল ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেন এবং ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পরে বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং মেডিকেল ইউনিটসহ অন্যান্য সংস্থাকে অবহিত করে এবং সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
মহড়া অনুষ্ঠান শেষে বেচিক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ‘এ ধরনের মহড়া শুধু দুর্বলতা শনাক্তের সুযোগই সৃষ্টি করে না, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধি করে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহড়ার সফলতা সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’
এর মাধ্যমে যেকোনও অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মহড়ায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান ও বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর আসিফ ইকবাল। মহড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, কক্সবাজার জেলা পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল টিম এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা অংশ নেয়।

















