কক্সবাজার জেলায় ১৫ এবং নিঝুম দ্বীপ ও কুয়াকাটায় ২টিসহ দেশের মোট ১৭টি স্থানে বিরল ভারী খনিজভান্ডারের অস্তিত্ব মিলেছে বলে দাবি করছে কক্সবাজার সৈকত খনিজ বালু আহরণ কেন্দ্রের (বিএসএমইসি) গবেষকরা।
কক্সবাজারের বালুতে জিরকনের পাশাপাশি আছে ইলমেনাইট, রুটাইল, গারনেট, ম্যাগনেটাইট, কায়ানাইট ও মোনাজাইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভারী খনিজও। পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে তা দেশের শিল্পায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থানে এক নতুন দিগন্ত উম্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর মুখ্য ভূতত্ত্ববিদ ড. মোহাম্মদ রাজীবের মতে, আধুনিক শিল্প ও প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল জিরকন। এ থেকে উৎপাদিত জিরকোনিয়াম ও এর যৌগ উচ্চপ্রযুক্তির শিল্প, জেট ইঞ্জিন, মহাকাশ প্রযুক্তি, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা শিল্প, উচ্চমানের সিরামিক ও রিফ্র্যাক্টরি শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এ কারণে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীন বিশ্বের প্রধান জিরকন উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।
তিনি আরও জানান, জিরকনের পাশাপাশি কক্সবাজার উপকূলে পাওয়া ইলমেনাইট ও রুটাইল টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল; যা রং, প্লাস্টিক ও কাগজসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্যে ব্যবহৃত হয়। ম্যাগনেটাইট ও গারনেট ধাতব শিল্প ও ঘর্ষণ উপকরণ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে মোনাজাইটে থাকা বিরল মৃত্তিকা ও তেজস্ক্রীয় উপাদান উন্নত ইলেকট্রনিকস, শক্তিশালী চুম্বক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি ও অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসাবে বিবেচিত হয়।
বিজ্ঞানীদের দাবি, এসব খনিজের সম্মিলিত উপস্থিতি কক্সবাজার উপকূলকে একটি সম্ভাবনাময় কৌশলগত খনিজ অঞ্চলে পরিণত করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলজুড়ে ছয়টি পৃথক খনিজভান্ডার চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া মহেশখালীতে সাতটি, মাতারবাড়ীতে একটি ও কুতুবদিয়ায় একটি খনিজভান্ডারের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে এসব ভান্ডারের কোনোটিরই এখনো সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ বা সুরক্ষিতভাবে চিহ্নিতকরণ করা হয়নি।
