কক্সবাজার-৪, টেকনাফে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, সব কেন্দ্রে পৌঁছেছে সরঞ্জাম


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে কক্সবাজারের টেকনাফে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। সীমান্ত এলাকা ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এই সংসদীয় আসনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে সকাল থেকেই উপজেলার ৬১টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি মালামাল বিতরণ শুরু হয়েছে।
প্রশাসন কঠোর অবস্থান ও প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে। সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম জানিয়েছেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “উৎসবমুখর পরিবেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সরকার ও প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। এটি আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ ও কমিটমেন্ট।”
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড, বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ), র্যাব ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট।
সকাল ১১টায় টেকনাফ মডেল থানার আয়োজনে উপজেলা কমপ্লেক্স আদর্শ বিদ্যালয় কেজি স্কুল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
(উখিয়া-টেকনাফ) কক্সবাজার-৪ আসনে মূলত চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সাধারণ ভোটারদের মতে, মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে। প্রার্থীরা হলেন শাহজাহান চৌধুরী বিএনপি ধানের শীষ, নুর আহমদ আনোয়ারী জামায়াত ইসলামী দাঁড়িপাল্লা, মাওলানা নুরুল হক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা ও সাইফুদ্দিন খালেদ (সিংহ)।
বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন, সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “উখিয়া-টেকনাফ জনপদের ভাগ্য পরিবর্তনে ধানের শীষের বিকল্প নেই। আশা করছি ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিয়ে একটি ‘ভোট বিপ্লব’ ঘটাবেন।”
জামায়াত প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, “আমি জনগণের প্রতিনিধি নয়, সেবক হতে চাই। আল্লাহর আইন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দোয়া ও ভোট প্রত্যাশা করছি।”
এদিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, সকল বুথ ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ। কোনো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। বিকেলের মধ্যেই সকল মালামাল কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে এবং বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হবে।

















