পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগর

কনেজ চাকমা সভাপতি ও হ্লামংচিং মারমা সাধারণ সম্পাদক

fec-image

ঢাবি’র টিএসসিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও ৩২তম কাউন্সিল ৮ নভেম্বর শনিবার বিকেলে সম্পন্ন হয়। কাউন্সিলে কনেজ চাকমাকে সভাপতি এবং হ্লামংচিং মারমাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট পিসিপি ঢাকা মহানগর শাখা কমিটি গঠন করা হয়।

কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় স্টাফ সদস্য অনন্ত বিকাশ ধামাই, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি রুমেন চাকমা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিল উইমেন্স ফেডারেশন, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি চন্দ্রিকা চাকমা।

পিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার বিদায়ী কমিটির সভাপতি জগদীশ চাকমার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সৈসানু মারমার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদায়ী কমিটির তথ্য প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কনেজ চাকমা এবং সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদায়ী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হ্লামংচিং মারমা। এছাড়াও পিসিপি ঢাকা মহানগরের অধীনস্থ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, মিরপুর থানা শাখা, ঢাকা পলিটেকনিক শাখার প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনন্ত বিকাশ ধামাই বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। জুম্ম ছাত্র সমাজকে মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব থেকে বের হয়ে এসে আন্দোলন সংগ্রামের হাল ধরতে হবে। কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোকে চিহ্নিত করে আগামী দিনে লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জুম্ম ছাত্রসমাজকে আর অধিকতর প্রগতিশীল ও অধিকার সচেতন হতে হবে।’

প্রধান বক্তা রুমেন চাকমা বলেন, ‘জুম্ম ছাত্র সমাজকে প্রগতিশীল আদর্শে আদর্শিত হয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে অবশ্যই সামিল হতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা যেহেতু রাজনৈতিক, তাই এটিকে সমাধানের জন্য রাজনৈতিকভাবেই অগ্রসর হতে হবে। রাজনৈতিক আন্দোলনকে সফল করতে হলে প্রগতিশীল ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলার কোনো বিকল্প পথ নেই। আজকের সম্মেলন ও কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে সেই ধরণের নেতৃত্বকে হাল ধরতেই হবে।’

চন্দ্রিকা চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ শুধু একটি নাম নয়, ‘এটি জুম্ম তারুণ্যের সংগ্রাম ও প্রতিবাদের একটি কন্ঠস্বর। ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ব্যতীত আমাদের মুক্তি নেই। জুম্ম জনগণের উপর নির্যাতন বন্ধ ও নারী ধর্ষণ বন্ধ করার জন্য আমাদের তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। সংগঠনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব দরকার। আশা করি এই কাউন্সিলের মাধ্যমে আমরা সেই নেতৃত্বদেরকে আমাদের মাঝে পাব।’

কনেজ চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮টি বসন্ত পেরিয়ে গেলেও সেটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তুলে বলেন, জুম্ম জনগণের মুক্তির সংগ্রামকে বেগবান করার জন্য আমরা ছাত্রসমাজ ঐতিহাসিক দায়িত্বকে কাঁধে তুলে নিব।

সভাপতির বক্তব্যে জগদীশ চাকমা বলেন, ‘আমরা আমাদের যথাযথ অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। শাসকগোষ্ঠী থেকে আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজন সংগঠন। আমরা সবাই জুম্ম জনগণের সমস্যাগুলোকে বুঝতে পারি। তাই আমাদের সবাইকে সমাধানের পথে ধাবমান হতে হবে।’

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ছাত্র সংগঠন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন