কর্মচারীর দখলে আলীকদম হাসপাতালের জমি

fec-image

একদশকের বেশী সময় ধরে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর অবৈধ দখলে রয়েছে আলীকদম সরকারী হাসপাতালের জমি ও কোয়ার্টার। এ নিয়ে অভিযোগের পর ২০১৮ সালের জুলাইয়ে জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলেও ঝুলে আছে উচ্ছেদ কার্যক্রম। তবে সম্প্রতি জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন উচ্ছেদ আদেশের জন্য অভিযোগ ও তদন্ত রিপোর্ট উর্ধ্বন মহলে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন জানান, ইতোপূর্বে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে উদ্যোগ নিয়েও সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক (এএইচআই) ইয়াছিন শরীফের দখল থেকে হাসপাতালের ১০ শতক জমি উদ্ধার হয়নি। একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর খুঁটির জোর কোথায় এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮২ সালে আলীকদম মানোন্নীত থানা ঘোষণার পর ২৮৮নং আলীকদম মৌজার ৭ নং সিটের দাগ নম্বও ৯৭৪, ৯৭৫ ও ৯৭৬ থেকে ৬৪ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নামে। উপজেলা ভূমি উন্নয়ন করের রেকর্ড মতে এ জমির বাৎসরিক খাজনা দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

১৯৯৪ সালে চৌমুহুনীতে হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ হয়। পুরাতন হাসপাতালের টিনসেট কোয়ার্টারগুলিতে তৎসময়ে কয়েকজন কর্মচারী বাসা ভাড়া নেন। এ ধরণের ভাড়াটিয়ার একজন হলেন হাসপাতালের আয়া জোহরা বেগম। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত। এ আয়া জোহরার স্বামী হচ্ছেন একই হাসপাতারের এএইচআই ইয়াছিন শরীফ। স্বামী-স্ত্রী দু’জনের পরিকল্পনায় ভাড়া নেওয়া একটি কোয়ার্টার দখলে নিয়ে তারা আর ভাড়াও পরিশোধ করছেন না।

জানা গেছে, কয়েকবছর পূর্বে পুরাতন হাসপাতালের একাংশে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ভবন নির্মাণের সময় দখলদার ইয়াছিন-জোহরা দম্পতিকে উচ্ছেদ না করে পুরাতন হাসপাতালের জমির মাঝখানে ভবন নির্মাণ করা হয়। পরিবার পরিকল্পনা ভবনে উত্তর পার্শ্বে হাসপাতলের ১০ শতক জমি এখন এ দম্পতির অবৈধ দখলে।

দখল করা হাসপাতালের কোয়ার্টার ও জমি কুক্ষিগত করতে চতুর এএইচআই ইয়াছিন শরফি ইতোমধ্যে একটি হেডম্যান রিপোর্ট তার অনুকুলে সংগ্রহ করেছেন। অথচ প্রচলিত নিয়মমতে পার্বত্যাঞ্চলের বাইরের লোক হিসেবে তার এ ধরণের রিপোর্ট পাওয়ার কথা নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে তৎকালীন ইউএনও আসাদুজ্জামান স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইয়াছিন-জোহরা দম্পতির কবল থেকে জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেন। প্রক্রিয়া শেষে সে সময় জেলা প্রশাসক একটি উচ্ছেদ করার আদেশ দেন। কিন্তু পরে ইউএনও আসাদুজ্জামান বদলী হওয়াতে সে উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।

২৮৮নং আলীকদম মৌজার হেডম্যান অংহ্লাচিং মার্মার দেয়া তথ্যে জানা যায়, মাঠ খসড়ায় পুরাতন হাসপাতালের দাগের কিছু জমি খাস আছে। সেখান থেকে ইয়ায়িছন শরীফ কিছু জমি বন্দোবস্তির জন্য রিপোর্ট নিয়েছেন।

ইয়াছিন শরীফের দাবী, এ জমি খাস। হেডম্যান রিপোর্ট নিয়ে তিনি দখলে আছেন। এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ অংসুই প্রু বলেন, ইতোপূর্বে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে সহাকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইয়াছিন শরীফের দ্বারা আলীকদমের পুরাতন হাসপাতালের জমি জবর দখলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত পরবর্তী আদেশের জন্য সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদন উর্ধ্বতন মহলে পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই আমি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করে উদ্যোগ নেবো।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আওয়ামী লীগ, আলীকদম
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − eleven =

আরও পড়ুন