কাউখালী জুড়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে জুম কল্যাণ পরিষদ : নেপথ্যে ইউপিডিএফ

fec-image

দু’পক্ষই বৈধ মালিক কাগজপত্রও ঠিক আছে কিন্তু দু’মালিকের মৌজা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পৃথক মৌজা হওয়া সত্বেও দু’পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধ চলে আসছিলো কাউখালীর আলী হোসেন ও ইউপিডিএফ কাউখালী ইউনিটের সাবেক কমান্ডার সুগত চাকমার স্ত্রী বিমলা চাকমার সাথে। বিরোধীয় জমি নিয়ে পূর্বে ও বর্তমানে স্থানীয় চেয়ারম্যানের আদালতে বেশ কয়েকা দফা শালিশী বৈঠক হলেও পেছন থেকে কলকাঠি নাড়া অদৃশ্য শক্তির উস্কানিতে তা সুারাহা করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়টিকে পুঁজি করে কাউখালী জুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর পাঁয়তারা করছে জুম কল্যাণ পরিষদ নামে একটি পাহাড়ি সংগঠন।

স্থানীয় চেয়ারম্যানের আদালতে বিচারাধীন ভূমি সংক্রান্ত বিষয়কে পূঁজি করে জমির মূল মালিক, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, চেয়ারম্যান ও গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে উপজেলা জুড়ে বানোয়াট লিফলেট বিতরণ করে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে এসব ভুঁইফোড় সংগঠন। আর এসবের নেপথ্যে উস্কানি দিচ্ছে রাজনৈতিকভাবে এক রকম কোনঠাসা প্রসীত বিকাশ খীসার সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ

উভয়পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কাউখালীর দুর্গম ঘিলাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেন ১৯৮৬ সালে সরকারের পূনর্বাাসন কর্মসূচীর আওতায় ৯৮নং কচুখালী মৌজার হোল্ডিং নং- ১৫৬/জ, দাগ নং-১৬০৪ এর অধীনে ২.৮০ (দুই একর আশি শতক) একর জমির মালিক হন। এর বিপরীতে প্রতি বছর নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন আলী হোসেন। অপরদিকে ১০১নং ঘিলাছড়ি মৌজার হোল্ডিং ১০৫/৮৬/১৬০ অধীনে ১ (এক) একর জায়গার মালিক হন ইউপিডিএফ কাউখালী ইউনিটের সাবেক কমান্ডার সুগত চাকমা ওরফে মিলন চাকমা ওরফে সুদেব চাকমার স্ত্রী বিমলা চাকমা। দুটি বিরোধীয় জায়গা সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন মৌজা হওয়া সত্বেও বিমলা চাকমা আলী হোসেনের সাথে বার বার বিরোধে জড়িয়ে যাচ্ছেন বলে জানান আলী হোসেনের ছেলে মো. পারভেজ।

এ বিষয়ে বিমলা চাকমাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এ জমি নিয়ে আলী হোসেনের সাথে দীর্ঘদিন যাবত সমস্যা চলে আসছে। দুটি ভিন্ন মৌজার জমি হওয়া সত্বেও কেন এ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেন নি। চেয়ারম্যানের আদালত ও থানায় বৈঠকের সিদ্ধান্ত হওয়ার পরও কেন সে বৈঠকে উপস্থিত হননি এমন প্রশ্ন করা হলে বিমলা জানান, আমি জমির মালিক হলেও দেখভাল করে আমার শশুর নলিন্দ কুমার চাকমা। তিনি জানেন কেন যাননি। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।

গত ২৫ জানুয়ারী আলী হোসেনের ছেলে তার বাবার নাামে রেকর্ডকৃত পাহাড়ে গাছ কাটতে গেলে বিমলা চাকমা ও তার শশুর নলিন্দ কুমার চাকমা বাঁধা দেন। একই তারিখে স্থানীয় ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যানের আাদালতে লিখিত অভিযোগ দেন নলিন্দ কুমার চাকমা। চেয়ারম্যান বিরোধীয় বিষয়ে স্ব স্ব কাগজপত্রসহ উভয় পক্ষকে ২৬ জানুয়ারী কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলেন। পরের দিন বৈঠকে উভয় পক্ষের জমি এক সপ্তাহের মধ্যে আমিন দ্বারা পরিমাপ করার সিদ্ধান্ত হয়।

ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান, বিরোধীয় জমি সম্পূর্ণ ভিন্ন দাগ ও ভিন্ন মৌজার। এর পরও জমি নিয়ে যাতে কোন ধরণের সংঘাত সৃষ্টি না হয় তারা জন্য জমি পরিমাপ পরিচিহ্ন করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বৈঠকের পর বিবাদী পক্ষ সব কাগজপত্র জমা দিলেও দশদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও বাদী তথা বিমলা চাকমার পক্ষ থেকে কোন সারা পাওয়া যায়নি এমনকি জমির স্বপক্ষে কোন কাগজপত্রও জমা দেয়নি। পরে জানতে পারি তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে ফের অভিযোগ করেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইন শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে বিষয়টি কাউখালী থানাকে ন্যাস্ত করেন। চেয়ারম্যান জানান, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে একটি মহল এলাকার শান্তি শৃংখলা নষ্টের পায়তারা চালাচ্ছে।

কাউখালী থানার ওসি মো. শহিদুল্লাহ জানান, বাদী পক্ষে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিমলা চাকমাকে থানায় হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়। তারা থানায় হাজির হয়ে বিরোধীয় জমির বিষয়ে সঠিক কোন কাগজপত্র উপাস্থপন করতে না পারায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ পূণরায় বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেই বৈঠকে বিবাদী পক্ষ উপস্থিত হলে বাদী পক্ষ উপস্থিত হয়নি।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই নজরুল ইসলাম জানান, বাদী পক্ষকে থানায় হাজির হওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা থানায় হাজির হননি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইউপিডিএফ, পার্বত্য ভূমি সমস্যা, ভূমি সমস্যা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন