কাউখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলা, বাড়ি ভাংচুর

Kaukhali zia Asoulted news-14-01-2016

কাউখালী প্রতিনিধি:

কাউখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জুয়েলকে শারীরিক নির্যাতন ও মোটরসাইকেলসহ বাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এক শালিশী বৈঠকে ঘটনার সমাধান হয়।

হামলাকারী মেহেদেী হাসান সানি ও মো. মাহফুজ নিজেদের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চায়। হামলার ফলে ভাংচুরের ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ সরকার।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌচামং(এসএম) চৌধুরী, ইউএনও আফিয়া আখতার, থানার ওসি আব্দুল করিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ সরকার, কাউখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি আরিফুল হক মাহবুব, সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন প্রমূখ।

বৈঠকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌচামং (এসএম) চৌধুরী বলেন, রাজনীতির উর্দ্ধে আমরা মানুষ ও সামাজিক জীব। এধরণের ঘটনা কোন ভাবেই কাম্য নয়। এতে করে দলের ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কার জনক, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরণে ঘটনার পুনরাবৃত্তির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ সরকার বলেন, যে ঘটনা ঘটে গেছে তার জন্য দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে এধরণের ঘটনা আর ঘটবেনা ও ভাংচুরের ক্ষতিপূরণেরও দায়িত্ব নিচ্ছি। উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও কারো উপরে কিংবা বাড়িতে গিয়ে হামলার ঘটনা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬.৩০ ঘটিকার সময় উপজেলা সদররের রিক্সস্ট্যান্ড এলাকায় মাহফুজ ও মেহেদি হাসান দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার পথে একটি সিএনজি অটোরিক্সাকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজি ড্রাইভারের সাথে বিতন্ডা শুরু হয়। মুহূর্তেই লোক জমায়েত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিশৃংখল হতে দেখে লোকজনের ভেতর এত জোড়ে গাড়ী চালানো ঠিক না বলায় মোটসাইকেল আরোহী দু’জনই জুয়েলকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

এর পরে প্রেসক্লাব থেকে সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে জুয়েল পোয়াপাড়া বাড়ীর গেইটে পৌঁছানোর সাথে সাথে মাহফুজ ও মেহেদীসহ তাদের ৫-৬ জন সহযোগী অতর্কিত পেছন দিক থেকে বাঁশের লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। আঘাতে মোটরসাইকেলসহ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জুয়েল দ্রুত ঘরের মধ্যে আশ্রয় নেনে। এ সময় মোটরসাইকেলটিও ভাংচুর করে।

এ সময় প্রাণ ভয়ে ঘরের শিশু ও মহিলারা চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকলে হামলাকারীরা বড় বড় ইট ছুড়ে ঘরের চালা ও বেড়া ভাংচুর চালায়। এতে সন্ত্রাসীদের ছোড়া ইটের আঘাতে কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ ঘরের মূল্যবান জিনিষপত্রের ক্ষতিসাধন হয়। ভাংচুরের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে।

এ সময় কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আখতার ও থানার ওসি আব্দুল করিম ফোনে জুয়েলের সাথে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ খবর নেন। বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে রাতেই ফোনে কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য অংসুইপ্রু চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিষয়টির যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে মামলা দায়ের না করার অনুরোধ জানান জুয়েলকে।

এর আগে গত ১৯ মার্চ রাতেও এই গ্রুপটি একইভাবে জুয়েলে বাড়িতে ভাংচুর চালালে অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করে ২০ মার্চ কাউখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (নম্বর-৬৪৩) রুজু করেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − 5 =

আরও পড়ুন