পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্তব্য পালনকালে শাহাদাতবরণকারী ল্যান্স নায়েক মো. কাজী আবুল বাশার, বীর প্রতীক, ইস্ট বেঙ্গল-এর আজ ৩৭তম শাহাদাত বার্ষিকী। ১৯৮৯ সালের আজকের এই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামে তাঁর অসীম সাহসিকতা, বিচক্ষণতা ও আত্মত্যাগে ৮ জন সৈনিকের জীবন, মূল্যবান অস্ত্র ও সরকারি সম্পদ রক্ষা পায় এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তিনি ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে ল্যান্স নায়েক মো. কাজী আবুল বাশার, বীর প্রতীক এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি পোস্ট করা হয়।
পোস্টে উল্লেখ করা হয় যে, ‘ল্যান্স নায়েক মো. কাজী আবুল বাশার ১৯৮৯ সালে তৎকালীন ৪৩ ইস্ট বেঙ্গল এর সাথে পানছড়ি জোনে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮৯ সালের ১৬ জুলাই পানছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার পথে অধিনায়কের নিরাপত্তা এসকর্ট এর গাড়ির চালকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই দিন দুপুরে মনিগ্রাম এলাকায় পৌঁছলে শান্তিবাহিনী সন্ত্রাসীদের এ্যাম্বুশে পতিত হয়। শান্তিবাহিনীর এলএমজি’র প্রথম বার্স্টে গাড়ির দ্বিতীয় আসনে থাকা হাবিলদার মফিজ উদ্দিন সঙ্গে সঙ্গে শাহাদত বরণ করেন। ল্যান্স নায়েক কাজী আবুল বাশার নিজেও বুকে, হাতে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। মারাত্মক আহত অবস্থায়ও তিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে ৮ জন সৈনিক, অস্ত্র ও গাড়ি রক্ষার সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। তিনি এ্যাম্বুশ এলাকা থেকে গাড়ি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য গতিমাত্রা বাড়িয়ে দেন এবং গাড়িটি এ্যাম্বুশ এলাকা থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন। তবে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি দুর্বল হয়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, যার ফলে গাড়িটি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। পরবর্তীতে, ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদত বরণ করেন। ল্যান্স নায়েক কাজী আবুল বাশারের অসীম সাহসিকতা, বিচক্ষণতা ও আত্মত্যাগে ৮ জন সৈনিকের জীবন, মূল্যবান অস্ত্র ও সরকারি সম্পদ রক্ষা পায়। তাঁর এই অনন্য সাহসিকতার জন্য তাঁকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করেন।’
