কানাডা নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা পুনর্বাসিত


ক্যাম্পের বন্দি জীবনে প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তার কারণে উন্নত দেশে পুনর্বাসনের আশায় যেতে চায় রোহিঙ্গারা। কানাডা নিউজিল্যান্ডসহ বেশকয়েকটি উন্নত দেশে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮৯৭ জন রোহিঙ্গা পুনর্বাসিত হয়েছে বলে ইত্তেফাকের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
৬ ডিসেম্বর প্রতিবেদক জামিউল আহসান সিপু তাঁর প্রতিবেদনে তথ্য তুলে ধরেন যে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজ ভাষায় পড়াশুনা অথবা জীবন জীবিকার নানা আয়োজন আছে। তবুও সেটা বন্দি জীবনের মতোই। নিজভূমে ফেরা যখন অনিশ্চিত। অন্যের দানে চলা জীবন নিজভূমে না হোক, যেতে চায় পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে। এমন চাওয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অনেকের মাঝে। বৈধ বা অবৈধ যে পথেই হোক তারা যেতে চান উন্নত বিশ্বের যে কোনো দেশে। এ কারণে মাঝে মধ্যে সাগরপথে তারা পাড়ি জমায় মালয়েশিয়া অথবা ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে। পাচারকারী সিন্ডিকেটের খপ্পড়ে পড়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উত্তাল সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে জীবন হারাতে হচ্ছে।
কানাডায় পুনর্বাসিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, এখন যদি শান্তিপূর্ণভাবে আরাকানে চলে যেতে পারে, সবাই চলে যাবে। আমরাও চলে যাব আরাকানে। বছরে ১ ভাগও পুনর্বাসনের সুযোগ পায়নি। কক্সবাজারের উখিয়ার ১৮ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ হারেজ (২৬) প্রাণ বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট ৪ সন্তান নিয়ে আশ্রয় নেন বাংলাদেশে। ক্যাম্পে মানবেতর দিন কাটালেও মিয়ানমারে তিনি ছিলেন রাজার হালে। জমি-জমা তো বটেই; ছিল গোয়াল ভরা গরু-মহিষ-ছাগলও। হারেজ এখন ফিরতে চান হারিয়ে আসা সেই জীবনে, চান নিজ ভিটায় ফিরতে। তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা খেলবে এরকম একটা মাঠ নেই, ভালো একটা রাস্তা পর্যন্ত নেই কোথাও। ক্যাম্পের জীবন আমাদের একটুও ভালো লাগে না। নিজ দেশে আমাদের বড় বড় জায়গা ছিল, ঘরবাড়ি ছিল। আর ছোট একটা ঝুপড়ি ঘরে আমাদের থাকতে হচ্ছে এখানে। গ্রীষ্মকালে গরমের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে যাই আবার বর্ষাকালে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে যায়। আমরা আমাদের দেশে ফিরে যেতে চাই। শরণার্থী হয়ে এই বাংলাদেশে আমরা আর থাকতে চাই না। এই দেশে অন্য কোথাও গিয়ে কাজ করে আয় করার সুযোগও আমাদের নেই। সরকারি সহায়তা নিয়ে আমাদের জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। এরকম জীবন আমরা আর চাই না। আমরা নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই।’
কক্সবাজারের উখিয়ার ২০ নম্বর ক্যাম্পের মোহাম্মদ জোহার একজন ব্লক মেম্বার। দুই ছেলের বয়স যথাক্রমে ৬ ও ৪ বছর। মেয়ের বয়স ১ বছর। তিনি বলেন, আমাদের যদি শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ভূমিতে পুনর্বাসন করলে আমরা চলে যাব। শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় বলছে, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে শরণার্থীরা তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসিত হয়েছে, তবে সে সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের ১ দশমিক ২ মিলিয়ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। তাদেরকে আগে তাদের নিজভূম আরাকানে ফেরত নিতে হবে। এটাই আমরা চেষ্টা করছি। তবে উন্নত জীবনের আশায় বৈধ বা অবৈধ পথে কিছু রোহিঙ্গা বিভিন্ন দেশে চলে গেছে। তবে এটা করা হলে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনকে নিরুত্সাহিত করা হবে। আমরা চাই, ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের নিজভূমে পুনর্বাসিত করা হোক। উল্লেখ্য, প্রায় ১৪ লাখের মতো রোহিঙ্গা বসবাস করছে কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে। প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন অনিশ্চয়তায় মাঝে মাঝেই অবৈধ পথে পালানোর সময় সলিল সমাধি হয়ে খবরে শিরোনাম হন রোহিঙ্গারা।

















