কাপ্তাই হ্রদে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরলেও মাছের আকার নিয়ে হতাশা

fec-image

দীর্ঘ তিন মাস ১৭ দিন পর কাপ্তাই হ্রদে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। চিরচেনা সেই রূপ এখন মৎস্য অবতরণ ঘাট ও হ্রদজুড়ে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর বুধবার (১৭ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে মাছ আহরণ শুরু করেন জেলেরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) ভোরে সেসব মাছ ছোট ছোট বোটে করে বিএফডিসির অবতরণ ঘাটে নিয়ে আসেন। তবে আহরিত মাছ আকারে ছোট হওয়ায় হতাশ হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

দীর্ঘদিন পর অবতরণ ঘাটে এখন ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। শ্রমিকরা ব্যস্ত একের পর এক বরফ ভাঙতে। অবতরণকৃত মাছ সরকারি রাজস্ব মিটিয়ে ড্রামে প্যাকিং শেষে ট্রাকে তুলে দেওয়া হচ্ছে। যা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হবে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের হাঁকডাকে সরগরম পুরো ঘাট। তবে আহরণের প্রথম দিনে মাছের আকার ছোট হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা।

মাছ ব্যবসায়ী মো. মাহফুজ উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন পর ব্যবসা শুরু করলেও মাছের আকার ছোট থাকায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এই মাছ ঢাকায় বিক্রি করতে পারবো কিনা জানি না। আমাদের দাবি ছিল আরও কিছুদিন বন্ধ রাখার। তাহলে এই মাছের আকার আরও বড় হতো। আমরা লাভবান হতাম।

অন্যদিকে মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় খুশি জেলেরা। জেলে জয় দাস জানান, দীর্ঘদিন বেকার সময় কেটেছে। মাছ ধরা শুরু হওয়ায় আমারা হ্রদে মাছ শিকারে নেমেছি। এখন পর্যন্ত ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তবে চাপিলা মাছটি এবার আকারে কিছুটা ছোট। প্রথমদিনে কাচকি, চাপিলার আধিক্য ছিল সবচেয়ে বেশি।

বিএফডিসি সূত্র মতে, প্রথম ৪ ঘণ্টায় ৩৫ মে. টন মাছ আহরণ হয়েছে। গত বছর কাপ্তাই হ্রদ থেকে ১৭ হাজার ৮৭০ মেট্রিক টন মাছ আহরিত হয়। সেখান থেকে রাজস্ব আদায় হয় ১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা প্রায়। ২০২২ সালে হ্রদে ৬০ মেট্রিক টন পোনা অবমুক্ত করা হয়।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি), রাঙ্গামাটি বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রথম দিকে জালে ছোট মাছ বেশি আসে। কয়েকদিন পর এটি স্বাভাবিক হয়ে যায়। হতাশ হওয়ার কিছুই নাই, প্রথমদিনের মতো এভাবে মাছ ধরা অব্যাহত থাকলে গত বছরের চেয়ে রাজস্ব আয় বেশি হবে বলে আশাবাদী।

কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধির জন্য প্রতিবছর পহেলা মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়। তবে এবার পানি কম থাকায় আরো দুই দফায় ১৭ দিন নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন