
চৌধুরী হারুনুর রশীদ, রাঙামাটি:
সময়মতো পানি না বাড়ায় রাঙামাটির কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ভরা বর্ষা মওসুমে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদে কাঙ্ক্ষিত পানি জমেনি। চলতি মাসের মধ্যেই পানি না বাড়লে এবছর বিদ্যুৎ উৎপাদন দারুণভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিট চালু রেখে ১১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
আর বর্তমানে যেটুকু পানি রয়েছে তাতে পাঁচটি ইউনিট চালু করতে পারলেও সামনের দিনগুলোতে পানি না বাড়লে শীতকালীন মৌসুমেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধস নামবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর রয়েছে ৮৭ এমএসএল (মিনস্ সি লেভেল)। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে এসময় পানি থাকার কথা ১০২ এমএসএল। সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়া ও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর নিচে রয়েছে। তবুও গত কয়েকদিনে বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে পানি নেমে আসায় পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৮৭ এমএসএল এ পৌঁছায়। এতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটে প্রায় ১১৪ মেগাবাইট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে প্রতিদিন। বাকি দুটি ইউনিট বন্ধ থাকায় এই প্রজেক্টের স্বাভাবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রজেক্টের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
আগামী দিনে পানি না বাড়লে পানি সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কায় বর্তমানে তিনটির বেশি ইউনিট চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কারণ পাঁচটি ইউনিট চালু করা হলে তাতে পানি ছেড়ে দিতে হবে। এতে সামনের দিনগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব নাও হতে পারে। কমপক্ষে ১০০ এমএসএলের ওপর পানি থাকলে তবেই পাঁচটি ইউনিট চালু করা সম্ভব হয়। পানি সঙ্কটের কারণে রমজানের পূর্বে দুইটি ইউনিট চালু ছিলো। পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার পর আরেকটি ইউনিট চালু করা হয়। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ফেরদাউস আলী জানান, কাপ্তাই হ্রদে স্বাভাবিকের তুলনায় পানি কম থাকায় পাঁচটি ইউনিট চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা তিনটি ইউনিট চালু রেখেছি। এতে প্রতিদিন ১১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে পানি না বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধস নামবে।