কাপ্তাই হ্রদে ১মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলরাশি কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু ও প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশ বৃদ্ধি, মজুদ এবং ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে আগামী ১মে মধ্যরাত থেকে সব ধরনের মৎস্য আহরণ, পরিবহন ও বিপণন সম্পূর্ণরুপে বন্ধ থাকবে। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য হ্রদে মাছধরার ওপর এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। রোববার রাঙ্গামাটিতে জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ব্যাপারে সোমবার জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ মৎস্য কর্পোরেশন (বিএফডিসি) যৌথভাবে প্রতিবছরের মতো নিষেধাজ্ঞাটি জারি করে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।  

জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, দেশের সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলরাশি কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণসহ কাপ্তাই হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত হ্রদ হতে সব প্রকার মৎস্য আহরণ, বাজারজাতকরণ এবং পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মাছধরা বন্ধ মৌসুমে হ্রদের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তার আহবান করা হয়।

বরাবরের মতো এবারও মাছধরা বন্ধকালিন কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য অভয়াশ্রমগুলোর পাশাপাশি হ্রদের বিভিন্ন জায়গায় পর্যায়ক্রমে পোনাগুলো অবমুক্ত করা হবে।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চলতি মৌসুমে ১মে মধ্যরাত থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের মৎস্য আহরণ, বিপণন এবং পরিবহন করা যাবে না। ওই সময়ে হ্রদে কারেন্ট জাল, কাথা জাল, বেড়া জাল, মশারি জাল এবং ফাঁস জালসহ কোনো কিছু দিয়ে মাছ ধরা যাবে না। হ্রদ এলাকায় কচুরিপানা দিয়ে জাঁক তৈরির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

হ্রদে মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে রাঙ্গামাটি ফিশারিঘাট, জেলা পরিষদঘাট, লংগদু, বাঘাইছড়ি, কাপ্তাই, ডিসি বাংলোঘাটসহ সুবিধাজনক জায়গায় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। হ্রদ এলাকার ছয়টি মৎস্য অভয়াশ্রমে সব মৌসুমে মাছ শিকার ও আহরণ বন্ধ থাকবে।
হ্রদে মৎস্য শিকার বন্ধকালিন পরিবার প্রতি মাসে ৩০-৪০ কেজি করে সব জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে চাল বিতরণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কাপ্তাই হ্রদ, মৎস্য প্রজনন, মাছের বংশ বৃদ্ধি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 + 14 =

আরও পড়ুন