কুতুবদিয়া উপজেলা জুড়ে চলছে বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার গুজবের ছড়াছড়ি। চিলে কান নেয়ার মত পুরনো ভিন্ন জায়গার কিছু ছবি এডিট করে স্থানীয় কিছু বেনামী ফেসবুক আইডি থেকে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি দুষ্টচক্র। আর না বুঝেই অনেকেই শেয়ার করে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে প্রত্যন্ত এলাকায়।
রবিবার (২৩ জুন) রাত ১১টার দিকে উত্তর ধুরুং আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়া থেকে এক ব্যক্তি তার উঠানে সাপ দেখে সেটি মেরে হাসপাতালে নিয়ে আসে রাসেলস ভাইপার মনে করে। তবে সেটি কাউকে না কামড়ালেও মেরে ফেলা হয়েছে।
হাসপাতালে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. ফরহাদ বলেন, রাতে নিয়ে আসা সাপটি ঘরগিন্নী সাপ। এটা অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির সাপ। যা অনেকের ঘরে বসবাস করে পোকামাকড়, ইঁদুর খেয়ে বেঁচে থাকে। গুজবের ফলে আতংক বাড়ছে মানুষের মাঝে।
উপজেলা কৃষক লীগের আহবায়ক জাহেদুল ইসলাম কাইছার সিকদার বলেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক গুজব ছড়াচ্ছে কতিপয় ফেক আইডি থেকে। উপজেলায় কোন রাসেলস ভাইপার সাপের অস্তিত্ব এখনো পাওয়া যায়নি। অহেতুক জনগণের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে। গুজব থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
হাসপাতালের ইপিআই টেকনিশিয়ান ছৈয়দ কামরুল হাসান বলেন, উপজেলা জুড়ে সাপের আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতির মাঝে স্বস্তির কথা যে, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এন্টিভেনম ইনজেকশন রয়েছে। যদিও বিভিন্ন ক্লিনিকে এটির দাম ১৪০০ টাকা প্রতিটি। কাজেই সাপে কাটা রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসা উচিৎ।
কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামীম আল মামুন বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমানে বিষধর সাপে কামড়ানোর বিষ নিষ্ক্রিয় করণের এন্টিভেনম ইনজেকশন আছে। আতংকের কিছু নেই। সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে আরোগ্য লাভ সম্ভব। প্রকৃত বিষধর সাপে কামড়ালে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।
