কুতুবদিয়ায় ৩৮ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণে ৮৪০ কর্মকর্তার তালিকা


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনের কুতুবদিয়ায় নির্বাচন গ্রহণে প্রশিক্ষণের জন্য ৮৪০ কর্মকর্তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলার ৬ ইউনিয়নে মোট ৩৮টি কেন্দ্রের জন্য প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং অফিসার নিয়োগে এ তালিকা দেয়া হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে। তবে এই তালিকা থেকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বাছাই করে ৭০০ জন কর্মকর্তা মনোনীত করা হবে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯১৯ জন। ৩৮টি কেন্দ্রে বুথ রয়েছে ২১৫টি। প্রয়োজন হবে ৭০০ জন অফিসার। এসব নিয়োগে ইতিমধ্যে ৬৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ২৬৮ জন ও ৫০৬ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ ও প্রশিক্ষণে ডাকা হবে। এই তালিকা গোয়েন্দা বিভাগকে দেয়া হয়েছে।
এসব কর্মকর্তাদের সম্পর্কে যাচাই-বাছাই শেষে ৩৮ কেন্দ্রের জন্য ৪২ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ২২৫ জন সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার ও ৫০৬ জন পোলিং অফিসার চুড়ান্ত করে নিয়োগ ও প্রশিক্ষণে ডাকা হবে।
এদিকে প্রথম বারের মত সংসদ নির্বাচনের একই দিন গণভোট নেয়া হবে। এই গণভোটে হ্যাঁ বা না ভোটের জন্য ভোটারগণ কোন ধারণা পাচ্ছেনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা ছাড়া মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বা আনুষাঙ্গিক প্রচারণা যন্ত্রপাতি সরবরাহ না হলেও নিয়মিত প্রচারণা ও তথ্য প্রেরণের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গণভোটের প্রচারণা ও তার ভিডিও তথ্যচিত্র চাওয়া হচ্ছে নিয়মিত। অথচ এব্যাপারে তাদের কোন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি। সরবরাহ দেয়া হয়নি কোন ব্যানার বা আনুষাঙ্গিক উপকরণ।
বড়ঘোপ ১ নং ওয়ার্ডের ভোটার ছৈয়দ আলম বলেন, গত ৩ টা সংসদ নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ মেলেনি। এবার আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন। তবে একই সাথে নাকি গণভোট চেয়ে হ্যাঁ বা না ভোটের জন্য আলাদা ব্যালট থাকবে। কিসের পক্ষে হ্যাঁ ভোট,তাও সঠিক ধারণা পাচ্ছিনা। একদল বলে হ্যাঁ তে আরেক দল বলছে না তে সীল মারতে। এটিও একটা ঝামেলা মনে করেন বলে জানান তিনি।
এছাড়া বিগত আওয়ামী সরকারের আমলের কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে ভোট গ্রহণে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করার কথা রয়েছে। তবে এই তালিকা এখনো বাদ যায়নি। তাদের রেখেই তালিকা করা হচ্ছে। ফলে ভোট গ্রহণে এসব কর্মকর্তারা অনৈতিক পন্থা নিতে পারেন বলে অফিযোগ করেন অনেকেই।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা ৭ ০০ এর মত কর্মকর্তা প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তার ঘাটতি রয়েছে এখানে। তবে অতিরিক্ত প্রায় দেড় শ কর্মকর্তা থেকে বাছাই করার জন্যই গোয়েন্দা দপ্তরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সরাসরি যারা জড়িত ছিলেন বা অফিযোগ রয়েছে তাদের বাদ দিয়েই একটি পরিচ্ছন্ন টিম গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

















