কুতুবদিয়ায় অজ্ঞাত রোগে টমেটো ক্ষেতে মড়ক

fec-image

কুতুবদিয়ায় শীতকালিন সবজি চাষে টমেটো ক্ষেতে মড়ক দেখা দিয়েছে। ফলে চাষের শুরুতেই চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ঘুর্ণিঝড় বুলবুল’র প্রভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ার পর থেকেই টমেটো গাছগুলো একের পর এক মারা যাচ্ছে। উপজেলায় দু‘ইউনিয়নে বিশেষ করে আলী আকবর ডেইল হকদার পাড়া, চৌধুরী পাড়া, ঘাটকুল পাড়া, স্কুল পাড়া ও দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে অধিক সবজি চাষ হয়ে থাকে।

এ ছাড়াও কৈয়ারবিল, বড়ঘোপ ইউনিয়নেও কিছুটা শীতকালিন সবজি চাষ করে চাষিরা। ভাল ফলন হলে প্রতি কাণিতে(৪০ শতক) ৩ হাজার কেজি টমেটো উৎপাদন হয়ে থাকে। নতুন টমেটো বাজারে চাষিরা খুচরা ৬০/৭০ টাকায় বিক্রি করছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এবার ১২০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজি টমেটো, বেগুন, খিরা, মরিচ, ঢেঁড়শ, মুলা প্রভৃতি চাষ হচ্ছে। এছাড়া কিছু জমিতে ধান কেটে সবজি উৎপাদনে অন্তত আরও ৩০০ একর জমি প্রস্তুত হচ্ছে।

আলী আকবর ডেইল নাছিয়ার পাড়ার সবচি চাষি নুরুল আবছার, জাফর আলম জানান, দেড় মাস আগে টমেটো চারা রোপনের পর বৃষ্টিপাতের পর থেকেই গাছ মরে যাচ্ছে। বিশেষ করে গাছে ফুল থেকে গোটা বের হবার পর এই মড়ক দেখা দিচ্ছে। তারা আরও বলেন, অজ্ঞাত রোগে টমেটো গাছ মরে যাওয়ায় স্কয়ার, লোকলাল, থ্রিবিড-ভিটামিন, একতারা প্রভৃতি কীটনাশক ব্যবহার করেছেন। কোন কাজ হচ্ছেনা।

একই মাঠে মৌলভী জয়নাল আবেদীন, জাকের হোছাইন, ওছমান, আবুল মন্জুর, মফিজ আলম তারাও বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, ওই মাঠে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুপ দাশ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আসেন না। কৃষকেরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারেননা। স্থানীয় ইউপি ভবনে কৃষকদের সুবিধার্থে একটি কক্ষ নেয়া হয় উপ-সহকারীর জন্য। সপ্তাহে অন্তত ৪/৫ দিন বসার কথা থাকলেও নিয়মিত সেখানে কাউকে পাওয়া যায়না বলে চাষিরা জানান। ফলে যাচ্ছেতাই ভাবে অবাধে কীটনাশক ব্যবহার করে জমির উর্বরতা নষ্ট করে ফেলছেন চাষিরা।

এ দিকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের একাংশে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুপ দাশ গত ৩০ অক্টোবর থেকে কর্মস্থলে বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে প্রধান অফিস সহকারী ফরিদুল আলম জানান। অবশ্য উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবু জাফর মো. মাঈনুদ্দিন ওই উপ-সহকারী ট্রেনিং এ আছেন বলে দাবি করেন।

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, অধিকাংশ চাষিরা পরামর্শ না নিয়ে অবাধে জমিতে, ফসলে কীটনাশক, সার ব্যবহার করায় জমির ক্ষতি করছেন। ফলে নানা ধরণের রোগ বালাই দেখা দিচ্ছে। এই সুযোগে কীটনাশক ব্যবসায়িরা নামে-বেনামে বিভিন্ন কীটনাশক কৃষকের চাহিদা মাফিক বিক্রি করে যাচ্ছেন। উপ-সহকারিগণ নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন, পরামর্শ সহ যাবতীয় সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: অজ্ঞাত রোগে, টমেটো ক্ষেতে, মড়ক
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 2 =

আরও পড়ুন